দৈনিক টার্গেট

দেশের চেতনায়

মাহিরিন চৌধুরীর নীরব রাজনৈতিক সাহস

মাইলস্টোন কলেজের নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষক, শিক্ষার্থীপ্রিয় কো-অর্ডিনেটর মাহিরিন চৌধুরী- জীবদ্দশায় যিনি শুধুই একজন শিক্ষক হিসেবে পরিচিত ছিলেন শিক্ষাঙ্গনে। কিন্তু তার জীবন ইতিহাসের পাতায় লুকিয়ে ছিল এক বিস্ময়কর পরিচয়।

মাহিরিন চৌধুরী ছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদরের ভাতিজি। তিনি সরাসরি সম্পর্কিত ছিলেন জিয়ার আপন মামাতো ভাই, বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব মহিদুর রহমান চৌধুরীর কন্যা হিসেবে।

দীর্ঘকালীন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় আড়ালেই রেখেছিলেন তিনি। কখনো মিডিয়া বা রাজনৈতিক প্রচারের আলোয় আসেননি। অথচ দেশের রাজনৈতিক সংকটময় সময়ে, যখন বিএনপি চেয়ারপারসন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া কারাবন্দি ছিলেন, তখন সাহসিকতার সঙ্গে নিজের হাতে খাবার নিয়ে হাজির হতেন তিনি। কারাগার থেকে হাসপাতাল সবখানে খালেদা জিয়ার পাশে থাকার নীরব ভূমিকা পালন করেছেন মাহিরিন আপা। এমনকি বড় বড় রাজনৈতিক নেতারাও যেখানে নিরাপত্তা বা গ্রেফতারের ভয়ে সাহস পাননি, সেখানে নির্ভয়ে ছুটে গিয়েছেন এই নিরহংকারী নারী।

মাইলস্টোন কলেজে তার পরিচয় ছিল এক অমায়িক, সংযত ও আদর্শ শিক্ষকের। হাজারো শিক্ষার্থী তার আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়েছে, অনেকেই জানতো না তার রাজনৈতিক পরিচয় বা পারিবারিক পটভূমি। মাহিরিন চৌধুরীর মতো একজন মানুষের অবদান আজকের প্রজন্মের কাছে নিঃসন্দেহে প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।

গত সপ্তাহে সাবেক স্পিকার জমিরউদ্দিন স্যারের বাসভবনে মাহিরিন চৌধুরীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করার কথা থাকলেও শারীরিক অসুস্থতার কারণে অনেকেই যেতে পারেননি। কেউ ভাবেনি, সেটাই হবে তার সঙ্গে শেষবারের মতো কথা বলার সুযোগ।

তার আকস্মিক মৃত্যু শুধু পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়, রাজনীতির অন্দরমহলেও এক অপূরণীয় শূন্যতা তৈরি করেছে। তিনি ছিলেন প্রচারের বাইরে থাকা এক নিঃস্বার্থ নিবেদিত প্রাণ।

আল্লাহ্‌ তাআলা তাকে জান্নাতুল ফেরদাউস দান করুন এই দোয়াই আজ লাখো শিক্ষার্থী ও শুভাকাঙ্ক্ষীর একান্ত প্রার্থনা।

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।