এক সময় যা ছিল শুধুই কল্পকাহিনি, তা এবার বাস্তবে রূপ নিয়েছে। বিশ্ববাসীকে তাক লাগিয়ে দিয়ে জাপানের গবেষকেরা আবিষ্কার করেছেন বিশ্বের সর্বোচ্চ গতির ইন্টারনেট প্রতি সেকেন্ডে ১.০২ পেটাবাইট! এমন গতি এতটাই দ্রুত, যে মুহূর্তের মধ্যে নামিয়ে ফেলা যাবে হাজার হাজার গান, সিনেমা বা গেম।
এই অসাধারণ সাফল্য এসেছে জাপানের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশনস টেকনোলজি (এনআইসিটি) থেকে। ২০২৪ সালের জুন মাসে তারা এই রেকর্ড সৃষ্টি করে, যেখানে প্রতি সেকেন্ডে ১০ লাখ ২০ হাজার গিগাবিট ডেটা স্থানান্তর সম্ভব হয়েছে যা একটি নতুন বৈশ্বিক রেকর্ড।
কীভাবে সম্ভব হলো এই গতি?
এই অর্জন শুধু পরীক্ষাগারে সীমাবদ্ধ নয়। গবেষকেরা ব্যবহার করেছেন সাধারণ ফাইবার অপটিক তার, যা বর্তমানে বিশ্বজুড়েই ব্যবহৃত হচ্ছে। তবে তার ভেতরে ছিল চারটি কোর এবং ৫০টিরও বেশি আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য। সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয় হলো এই গতি তারা ৫১ কিলোমিটার দূরত্বেও সফলভাবে ধরে রাখতে পেরেছেন, যা ভবিষ্যতের ব্যবহার উপযোগী প্রযুক্তি হিসেবে ধরা হচ্ছে।
এই গতি দিয়ে কী সম্ভব?
এই গতির ইন্টারনেট ব্যবহার করে সম্ভব হবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ক্লাউড কম্পিউটিং, স্বয়ংক্রিয় গাড়ি, এবং রিয়েল-টাইম অনুবাদের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে দ্রুত তথ্য স্থানান্তর। গেমপ্রেমীদের জন্য সুখবর স্টিমের হাজারো গেম, যেমন কাউন্টার-স্ট্রাইক ২ বা বালদুর’স গেট ৩ মাত্র ১০ সেকেন্ডেই নামিয়ে ফেলা যাবে।
এছাড়াও, একসঙ্গে এক কোটি ৮কে আল্ট্রা-এইচডি ভিডিও স্ট্রিম করা যাবে। এমনকি, নিউইয়র্ক ও টোকিওর প্রতিটি মানুষকে একসাথে এইচডি সিনেমা দেখানো সম্ভব হবে। শুধু তাই নয়, এক সেকেন্ডে ১ লাখ ২৭ হাজার ৫০০ বছরের সমান গান ডাউনলোড করা যাবে বা উইকিপিডিয়ার সম্পূর্ণ ডেটা এক সেকেন্ডে ১০ হাজারবার ব্যাকআপ নেওয়া যাবে।
এ গতি কি সাধারণ ব্যবহারকারীর নাগালে আসবে?
এই মুহূর্তে নয়। এখনও গ্রাহক পর্যায়ে টেরাবাইট গতির ইন্টারনেট পৌঁছায়নি। তবে সরকার, টেলিকম সংস্থা ও ডেটা সেন্টারগুলো এই প্রযুক্তিকে নিজেদের নেটওয়ার্কে যুক্ত করার প্রচেষ্টায় রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই উদ্ভাবন ভবিষ্যতের ৬জি নেটওয়ার্ক, উন্নত সাবমেরিন কেবল ও জাতীয় ব্রডব্যান্ড নীতির ভিত্তি তৈরি করবে।
জাপানের এই যুগান্তকারী সাফল্য শুধু ইন্টারনেট প্রযুক্তিতে নয়, বরং সমগ্র বিশ্বের ডিজিটাল ভবিষ্যতের দিকনির্দেশনায় নতুন দ্বার উন্মোচন করেছে।















Leave a Reply