এক গ্রীষ্মের দাবদাহেই ইউরোপে মৃত্যু ৫০ হাজার, ক্ষতি ১৭ বিলিয়ন ইউরো

  • দৈনিক টার্গেট
  • প্রকাশ: ১১:১৬:৩৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬
  • ১১ বার পঠিত হয়েছে

দুটি পৃথক গবেষণায় এসব তথ্য উঠে এসেছে। গবেষণার ফলাফল বলছে, তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে ইউরোপ কতটা ঝুঁকির মুখে পড়েছে। ‘আধুনিক ইতিহাসের অন্যতম উষ্ণ বছর হতে যাচ্ছে ২০২৬’ এমন পূর্বাভাসের মধ্যে ইউরোপের এ চিত্র সামনে এল।

গত শুক্রবার প্রকাশিত একটি গবেষণায় তাপজনিত মৃত্যুর হিসাব তুলে ধরা হয়েছে। লন্ডনের ইম্পেরিয়াল কলেজের বিজ্ঞানীদের নেতৃত্বে পরিচালিত ওই গবেষণায় দেখা গেছে, গ্রীষ্মকালে উচ্চ তাপমাত্রার সঙ্গে সম্পর্কিত মৃত্যুর প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই জলবায়ু পরিবর্তন না হলে ঘটত না। অন্যদিকে ব্লুমবার্গ ইকোনমিকসের সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, ইউরোপের জিডিপিতে দাবদাহের আঘাত গত এক দশকের একই সময়ের গড় ক্ষতির তুলনায় আড়াই গুণ।

একের পর এক রেকর্ড ভাঙা দাবদাহের কারণে মৃত্যুর সামগ্রিক সংখ্যা আগের সবচেয়ে প্রাণঘাতী বছরগুলোর তুলনায় অনেক বেশি ছিল। গবেষণাটি চলতি সপ্তাহে নেচার হেলথ সাময়িকীতে প্রকাশিত হওয়ার কথা। এতে বলা হয়েছে, ২০২২ সালে ইউরোপের শহরগুলোতে তাপজনিত কারণে প্রায় ২৯ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। ২০০৩ সালে এ সংখ্যা ছিল প্রায় ২৮ হাজার।

ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডনের চরম আবহাওয়া ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক গবেষক এবং গবেষণাটির প্রধান লেখক ক্লেয়ার বার্নস এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘আমরা বারবার দাবদাহের মুখোমুখি হয়েছি। মানবসৃষ্ট উষ্ণায়নের কারণে বাড়তি তাপমাত্রা না থাকলেও এসব ঘটনা বিপজ্জনক হতো। কিন্তু মানবসৃষ্ট উষ্ণায়নের কারণে তাপমাত্রা আরও বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি সত্যিই অত্যন্ত বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে।’

পুরো গ্রীষ্মজুড়েই ইউরোপের দেশগুলোতে চরম তাপমাত্রা দেখা গেছে। মে মাসে শুরু হওয়া দাবদাহ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। অনেক দেশে তাপমাত্রার আগের রেকর্ড বড় ব্যবধানে ছাড়িয়ে যায়। পশ্চিম ইউরোপে ১৯৯১ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত গ্রীষ্মের গড় তাপমাত্রার তুলনায় এবার গড় তাপমাত্রা প্রায় ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি ছিল। কোনো কোনো দিনে তাপমাত্রার ব্যবধান ছিল ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত।

দাবদাহে পুরো মহাদেশের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দাবানলে বাড়িঘর পুড়ে গেছে, অতিরিক্ত গরমে হাসপাতালের ভেতরের তাপমাত্রা বেড়েছে, পরিবহনব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছে এবং ফ্রিজ ও শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের শীতলীকরণব্যবস্থা বিকল হয়ে পড়েছে।

ব্লুমবার্গ ইকোনমিকসের প্রতিবেদনটির লেখক উলরিখ এবারলে জানান, চরম তাপমাত্রার কারণে চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে ফ্রান্সের জিডিপি শূন্য দশমিক ২ শতাংশীয় পয়েন্ট কমেছে। একই সময়ে জার্মানির অর্থনীতি শূন্য দশমিক ১ শতাংশ ছোট হয়েছে। আর স্পেনের জিডিপিতে দাবদাহের প্রভাব ছিল শূন্য দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ।

ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডন ও লন্ডন স্কুল অব হাইজিন অ্যান্ড ট্রপিক্যাল মেডিসিনের যৌথ গবেষণায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্য, সুইজারল্যান্ড ও নরওয়ের ৩০টি দেশের ৮৫৪টি শহর অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এসব শহরের জনসংখ্যা সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর মোট জনসংখ্যার প্রায় ৪০ শতাংশ।

গবেষণায় দেখা গেছে, জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে সম্পর্কিত তাপজনিত মৃত্যুর সংখ্যা সময়ের সঙ্গে বেড়েছে। জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানোর ফলে নির্গত গ্যাস তাপমাত্রা বাড়িয়ে দেওয়ায় এই প্রবণতা তৈরি হয়েছে। ২০০৩ সালে অতিরিক্ত মৃত্যুর প্রায় ৪০ শতাংশের জন্য জলবায়ু পরিবর্তন দায়ী ছিল। এ বছর গ্রীষ্মে সেই হার বেড়ে প্রায় দুই-তৃতীয়াংশে দাঁড়িয়েছে।

তাপজনিত মৃত্যুর সঠিক হিসাব করা কঠিন। কারণ, মানুষ সাধারণত সরাসরি তাপের সংস্পর্শে এসে মারা যায় না। বরং অতিরিক্ত তাপমাত্রা শরীরের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে এবং আগে থেকে থাকা বিভিন্ন রোগের অবস্থা আরও খারাপ করে দেয়। বিশেষ করে হৃদ্‌যন্ত্র ও শ্বাসতন্ত্রের রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরা বেশি ঝুঁকিতে থাকেন।

হাসপাতালের বাইরে কারও শরীরের অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা নির্ভুলভাবে মাপাও কঠিন। কেউ বাড়িতে একা মারা গেলে তাঁর মৃত্যুর পেছনে তাপমাত্রার ভূমিকা ছিল কি না, তা সব সময় স্পষ্ট হয় না। এ কারণে তাপজনিত মৃত্যুর অনেক ঘটনা সরকারি হিসাবে সেভাবে নথিভুক্ত হয় না।

বুধবার এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে ইম্পেরিয়াল কলেজ হেলথকেয়ার এনএইচএস ট্রাস্টের নিবিড় পরিচর্যা বিভাগের পরামর্শক অ্যান্ড্রু হার্টল বলেন, ‘আমরা প্রায়ই দেখি, বয়স্ক রোগীরা বিভ্রান্ত হয়ে পড়ছেন, তাঁদের স্ট্রোক হচ্ছে কিংবা হৃদ্‌যন্ত্রের সমস্যা দেখা দিচ্ছে। এসব ক্ষেত্রে তাপমাত্রা মৃত্যুর পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।’ তিনি আরও বলেন, ‘ময়নাতদন্ত করে কেউ অতিরিক্ত গরমে ছিলেন কি না, তা জানা যায় না।’

ইম্পেরিয়াল কলেজের গবেষণায় তাপমাত্রার রেকর্ডের সঙ্গে তাপমাত্রার বিভিন্ন স্তরের প্রভাবে মৃত্যুহার কতটা বদলায়, সে বিষয়ে আগের গবেষণার ফলাফল মিলিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা অনুমান করা হয়েছে। গবেষকদের মতে, এই পদ্ধতিতে পাওয়া হিসাব অতীতে সরকারি পরিসংখ্যানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল। তবে ২০২৬ সালের পুরো গ্রীষ্ম মৌসুমের সরকারি স্বাস্থ্যসংক্রান্ত পরিসংখ্যান এখনো অনেক দেশের কর্তৃপক্ষ প্রকাশ করেনি।

যুক্তরাজ্যের পরিবেশ নিরীক্ষা কমিটির চেয়ারম্যান টবি পারকিনস বলেন, ‘বয়স্ক, অসুস্থ এবং দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মতো সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকা মানুষদের সুরক্ষা দেওয়া জরুরি। একই সঙ্গে তীব্র গরমে ঝুঁকিপূর্ণ মানুষদের নিরাপদ রাখতে সহায়ক অবকাঠামো যাতে ভেঙে না পড়ে, তা ঠেকাতে পদক্ষেপ নিতে হবে।’

২০২৬ সালের তুলনায় আগামী বছর আরও বেশি গরম পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বুধবার জাতিসংঘ জানিয়েছে, প্রাক্‌শিল্পায়ন যুগের তুলনায় বৈশ্বিক উষ্ণতা ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যাওয়া এখন প্রায় অনিবার্য। ফলে উষ্ণতা বৃদ্ধির এই সীমা কতটা ছাড়িয়ে যাবে, তা যতটা সম্ভব কমিয়ে আনার দিকে এখন বিশ্বকে মনোযোগ দিতে হবে।

বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ, ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেওয়ার শঙ্কা

বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ, ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেওয়ার শঙ্কা

পূর্বমধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় একটি সুস্পষ্ট লঘুচাপ অবস্থান করছে। এটি আরও পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর ও ঘনীভূত হয়ে ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ রূপ নিতে পারে সাইক্লোনে, কোথায় হানবে আঘাত

বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ রূপ নিতে পারে সাইক্লোনে, কোথায় হানবে আঘাত

পূর্ব-মধ্য ও তৎসংলগ্ন দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগর এলাকায় সৃষ্ট লঘুচাপটি আজ (২৪ অক্টোবর ২০২৬) সকাল ৬টায় সুস্পষ্ট লঘুচাপে পরিণত হয়ে পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছিল। এটি আরও পশ্চিম-উত্তর ও পশ্চিম দিকে অগ্রসর ও ঘনীভূত হতে পারে।

রাজধানীতে সকালবেলা ঝলমলে রোদ, তাপমাত্রা বাড়বে কি

রাজধানীতে সকালবেলা ঝলমলে রোদ, তাপমাত্রা বাড়বে কি

ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় সকাল ৭টা থেকে পরবর্তী ৬ ঘণ্টা আকাশ পরিষ্কার এবং আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। এ সময় উত্তর অথবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৫ থেকে ১০ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হতে পারে।

জনপ্রিয় টার্গেট

পুলিশ সদর দপ্তরে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উদ্বোধন আইজিপির

এক গ্রীষ্মের দাবদাহেই ইউরোপে মৃত্যু ৫০ হাজার, ক্ষতি ১৭ বিলিয়ন ইউরো

প্রকাশ: ১১:১৬:৩৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬

দুটি পৃথক গবেষণায় এসব তথ্য উঠে এসেছে। গবেষণার ফলাফল বলছে, তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে ইউরোপ কতটা ঝুঁকির মুখে পড়েছে। ‘আধুনিক ইতিহাসের অন্যতম উষ্ণ বছর হতে যাচ্ছে ২০২৬’ এমন পূর্বাভাসের মধ্যে ইউরোপের এ চিত্র সামনে এল।

গত শুক্রবার প্রকাশিত একটি গবেষণায় তাপজনিত মৃত্যুর হিসাব তুলে ধরা হয়েছে। লন্ডনের ইম্পেরিয়াল কলেজের বিজ্ঞানীদের নেতৃত্বে পরিচালিত ওই গবেষণায় দেখা গেছে, গ্রীষ্মকালে উচ্চ তাপমাত্রার সঙ্গে সম্পর্কিত মৃত্যুর প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই জলবায়ু পরিবর্তন না হলে ঘটত না। অন্যদিকে ব্লুমবার্গ ইকোনমিকসের সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, ইউরোপের জিডিপিতে দাবদাহের আঘাত গত এক দশকের একই সময়ের গড় ক্ষতির তুলনায় আড়াই গুণ।

একের পর এক রেকর্ড ভাঙা দাবদাহের কারণে মৃত্যুর সামগ্রিক সংখ্যা আগের সবচেয়ে প্রাণঘাতী বছরগুলোর তুলনায় অনেক বেশি ছিল। গবেষণাটি চলতি সপ্তাহে নেচার হেলথ সাময়িকীতে প্রকাশিত হওয়ার কথা। এতে বলা হয়েছে, ২০২২ সালে ইউরোপের শহরগুলোতে তাপজনিত কারণে প্রায় ২৯ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। ২০০৩ সালে এ সংখ্যা ছিল প্রায় ২৮ হাজার।

ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডনের চরম আবহাওয়া ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক গবেষক এবং গবেষণাটির প্রধান লেখক ক্লেয়ার বার্নস এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘আমরা বারবার দাবদাহের মুখোমুখি হয়েছি। মানবসৃষ্ট উষ্ণায়নের কারণে বাড়তি তাপমাত্রা না থাকলেও এসব ঘটনা বিপজ্জনক হতো। কিন্তু মানবসৃষ্ট উষ্ণায়নের কারণে তাপমাত্রা আরও বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি সত্যিই অত্যন্ত বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে।’

পুরো গ্রীষ্মজুড়েই ইউরোপের দেশগুলোতে চরম তাপমাত্রা দেখা গেছে। মে মাসে শুরু হওয়া দাবদাহ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। অনেক দেশে তাপমাত্রার আগের রেকর্ড বড় ব্যবধানে ছাড়িয়ে যায়। পশ্চিম ইউরোপে ১৯৯১ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত গ্রীষ্মের গড় তাপমাত্রার তুলনায় এবার গড় তাপমাত্রা প্রায় ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি ছিল। কোনো কোনো দিনে তাপমাত্রার ব্যবধান ছিল ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত।

দাবদাহে পুরো মহাদেশের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দাবানলে বাড়িঘর পুড়ে গেছে, অতিরিক্ত গরমে হাসপাতালের ভেতরের তাপমাত্রা বেড়েছে, পরিবহনব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছে এবং ফ্রিজ ও শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের শীতলীকরণব্যবস্থা বিকল হয়ে পড়েছে।

ব্লুমবার্গ ইকোনমিকসের প্রতিবেদনটির লেখক উলরিখ এবারলে জানান, চরম তাপমাত্রার কারণে চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে ফ্রান্সের জিডিপি শূন্য দশমিক ২ শতাংশীয় পয়েন্ট কমেছে। একই সময়ে জার্মানির অর্থনীতি শূন্য দশমিক ১ শতাংশ ছোট হয়েছে। আর স্পেনের জিডিপিতে দাবদাহের প্রভাব ছিল শূন্য দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ।

ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডন ও লন্ডন স্কুল অব হাইজিন অ্যান্ড ট্রপিক্যাল মেডিসিনের যৌথ গবেষণায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্য, সুইজারল্যান্ড ও নরওয়ের ৩০টি দেশের ৮৫৪টি শহর অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এসব শহরের জনসংখ্যা সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর মোট জনসংখ্যার প্রায় ৪০ শতাংশ।

গবেষণায় দেখা গেছে, জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে সম্পর্কিত তাপজনিত মৃত্যুর সংখ্যা সময়ের সঙ্গে বেড়েছে। জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানোর ফলে নির্গত গ্যাস তাপমাত্রা বাড়িয়ে দেওয়ায় এই প্রবণতা তৈরি হয়েছে। ২০০৩ সালে অতিরিক্ত মৃত্যুর প্রায় ৪০ শতাংশের জন্য জলবায়ু পরিবর্তন দায়ী ছিল। এ বছর গ্রীষ্মে সেই হার বেড়ে প্রায় দুই-তৃতীয়াংশে দাঁড়িয়েছে।

তাপজনিত মৃত্যুর সঠিক হিসাব করা কঠিন। কারণ, মানুষ সাধারণত সরাসরি তাপের সংস্পর্শে এসে মারা যায় না। বরং অতিরিক্ত তাপমাত্রা শরীরের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে এবং আগে থেকে থাকা বিভিন্ন রোগের অবস্থা আরও খারাপ করে দেয়। বিশেষ করে হৃদ্‌যন্ত্র ও শ্বাসতন্ত্রের রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরা বেশি ঝুঁকিতে থাকেন।

হাসপাতালের বাইরে কারও শরীরের অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা নির্ভুলভাবে মাপাও কঠিন। কেউ বাড়িতে একা মারা গেলে তাঁর মৃত্যুর পেছনে তাপমাত্রার ভূমিকা ছিল কি না, তা সব সময় স্পষ্ট হয় না। এ কারণে তাপজনিত মৃত্যুর অনেক ঘটনা সরকারি হিসাবে সেভাবে নথিভুক্ত হয় না।

বুধবার এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে ইম্পেরিয়াল কলেজ হেলথকেয়ার এনএইচএস ট্রাস্টের নিবিড় পরিচর্যা বিভাগের পরামর্শক অ্যান্ড্রু হার্টল বলেন, ‘আমরা প্রায়ই দেখি, বয়স্ক রোগীরা বিভ্রান্ত হয়ে পড়ছেন, তাঁদের স্ট্রোক হচ্ছে কিংবা হৃদ্‌যন্ত্রের সমস্যা দেখা দিচ্ছে। এসব ক্ষেত্রে তাপমাত্রা মৃত্যুর পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।’ তিনি আরও বলেন, ‘ময়নাতদন্ত করে কেউ অতিরিক্ত গরমে ছিলেন কি না, তা জানা যায় না।’

ইম্পেরিয়াল কলেজের গবেষণায় তাপমাত্রার রেকর্ডের সঙ্গে তাপমাত্রার বিভিন্ন স্তরের প্রভাবে মৃত্যুহার কতটা বদলায়, সে বিষয়ে আগের গবেষণার ফলাফল মিলিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা অনুমান করা হয়েছে। গবেষকদের মতে, এই পদ্ধতিতে পাওয়া হিসাব অতীতে সরকারি পরিসংখ্যানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল। তবে ২০২৬ সালের পুরো গ্রীষ্ম মৌসুমের সরকারি স্বাস্থ্যসংক্রান্ত পরিসংখ্যান এখনো অনেক দেশের কর্তৃপক্ষ প্রকাশ করেনি।

যুক্তরাজ্যের পরিবেশ নিরীক্ষা কমিটির চেয়ারম্যান টবি পারকিনস বলেন, ‘বয়স্ক, অসুস্থ এবং দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মতো সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকা মানুষদের সুরক্ষা দেওয়া জরুরি। একই সঙ্গে তীব্র গরমে ঝুঁকিপূর্ণ মানুষদের নিরাপদ রাখতে সহায়ক অবকাঠামো যাতে ভেঙে না পড়ে, তা ঠেকাতে পদক্ষেপ নিতে হবে।’

২০২৬ সালের তুলনায় আগামী বছর আরও বেশি গরম পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বুধবার জাতিসংঘ জানিয়েছে, প্রাক্‌শিল্পায়ন যুগের তুলনায় বৈশ্বিক উষ্ণতা ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যাওয়া এখন প্রায় অনিবার্য। ফলে উষ্ণতা বৃদ্ধির এই সীমা কতটা ছাড়িয়ে যাবে, তা যতটা সম্ভব কমিয়ে আনার দিকে এখন বিশ্বকে মনোযোগ দিতে হবে।

বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ, ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেওয়ার শঙ্কা

বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ, ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেওয়ার শঙ্কা

পূর্বমধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় একটি সুস্পষ্ট লঘুচাপ অবস্থান করছে। এটি আরও পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর ও ঘনীভূত হয়ে ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ রূপ নিতে পারে সাইক্লোনে, কোথায় হানবে আঘাত

বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ রূপ নিতে পারে সাইক্লোনে, কোথায় হানবে আঘাত

পূর্ব-মধ্য ও তৎসংলগ্ন দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগর এলাকায় সৃষ্ট লঘুচাপটি আজ (২৪ অক্টোবর ২০২৬) সকাল ৬টায় সুস্পষ্ট লঘুচাপে পরিণত হয়ে পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছিল। এটি আরও পশ্চিম-উত্তর ও পশ্চিম দিকে অগ্রসর ও ঘনীভূত হতে পারে।

রাজধানীতে সকালবেলা ঝলমলে রোদ, তাপমাত্রা বাড়বে কি

রাজধানীতে সকালবেলা ঝলমলে রোদ, তাপমাত্রা বাড়বে কি

ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় সকাল ৭টা থেকে পরবর্তী ৬ ঘণ্টা আকাশ পরিষ্কার এবং আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। এ সময় উত্তর অথবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৫ থেকে ১০ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হতে পারে।