অসুস্থ সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন, অবশ পায়ে সীমিত হয়েছে চলাফেরা

  • দৈনিক টার্গেট
  • প্রকাশ: ০৪:৪৯:০৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ আগস্ট ২০২৬
  • ১ বার পঠিত হয়েছে

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন

শারীরিক অসুস্থতার কারণে চলাফেরায় বেশ সমস্যায় পড়েছেন সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। বিশেষ করে পা অবশ হয়ে যাওয়ায় স্বাভাবিকভাবে হাঁটাচলা করতে পারছেন না তিনি। এ অবস্থায় আপাতত দেশের বাইরে গিয়ে চিকিৎসা নেওয়ার কোনো পরিকল্পনাও নেই তার।

রোববার (১৬ আগস্ট) নিজের শারীরিক অবস্থার কথা জানিয়ে সাবেক রাষ্ট্রপতি বলেন, বর্তমানে হাঁটাচলা তার জন্য বেশ কষ্টকর হয়ে উঠেছে। পায়ের অবশভাবের কারণে প্রয়োজনের বাইরে চলাফেরা এড়িয়ে চলছেন তিনি। ফলে নিকট ভবিষ্যতে কোথাও যাওয়ার পরিকল্পনা নেই বলেও জানান।

জানা গেছে, বর্তমানে রাজধানীর গুলশানে নিজ বাসায় পরিবারের সঙ্গে অবস্থান করছেন মো. সাহাবুদ্দিন। রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব ছাড়ার পর তিনি বঙ্গভবন থেকে গুলশানের বাসায় চলে আসেন। সেখান থেকেই নিয়মিত চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ নিচ্ছেন।

সাবেক রাষ্ট্রপতির চিকিৎসার একটি অংশ চলছে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ)। পাশাপাশি শারীরিক সমস্যা দেখা দিলে বাসায় থাকা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের কাছ থেকেও পরামর্শ নিচ্ছেন তিনি। বঙ্গভবন ছাড়ার পর এখন পর্যন্ত একবার সিএমএইচে গিয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন বলে জানান তিনি।

বিদেশে চিকিৎসা নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, বিষয়টি চিকিৎসকদের পরামর্শের ওপর নির্ভর করছে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা প্রয়োজন মনে করলে পরবর্তী সময়ে বিদেশে চিকিৎসার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।

এর আগে গত ২৪ জুলাই রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেন মো. সাহাবুদ্দিন। পদত্যাগপত্রে নিজের শারীরিক অসুস্থতা এবং দীর্ঘ সময় ধরে চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি উল্লেখ করেছিলেন তিনি। পদত্যাগের দুই দিন পর বঙ্গভবন ছাড়েন সাবেক রাষ্ট্রপতি।

তার পদত্যাগের পর সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অনুযায়ী ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

এদিকে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়াও এগিয়ে নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী আগামী ২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট হওয়ার কথা রয়েছে। এরই মধ্যে দুই প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ১৮ আগস্ট।

২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন মো. সাহাবুদ্দিন। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে তিনি পাঁচ বছরের জন্য রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। নির্ধারিত মেয়াদ অনুযায়ী ২০২৮ সালের এপ্রিলে তার দায়িত্ব শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে এর আগেই পদত্যাগের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ান তিনি।

বর্তমানে গুলশানের বাসায় অবস্থান করে চিকিৎসা নিচ্ছেন সাবেক এই রাষ্ট্রপতি। বিদেশে চিকিৎসার প্রয়োজন হবে কি না, সে সিদ্ধান্ত চিকিৎসকদের পরামর্শের ভিত্তিতেই নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

অসুস্থ সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন, অবশ পায়ে সীমিত হয়েছে চলাফেরা

প্রকাশ: ০৪:৪৯:০৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ আগস্ট ২০২৬

শারীরিক অসুস্থতার কারণে চলাফেরায় বেশ সমস্যায় পড়েছেন সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। বিশেষ করে পা অবশ হয়ে যাওয়ায় স্বাভাবিকভাবে হাঁটাচলা করতে পারছেন না তিনি। এ অবস্থায় আপাতত দেশের বাইরে গিয়ে চিকিৎসা নেওয়ার কোনো পরিকল্পনাও নেই তার।

রোববার (১৬ আগস্ট) নিজের শারীরিক অবস্থার কথা জানিয়ে সাবেক রাষ্ট্রপতি বলেন, বর্তমানে হাঁটাচলা তার জন্য বেশ কষ্টকর হয়ে উঠেছে। পায়ের অবশভাবের কারণে প্রয়োজনের বাইরে চলাফেরা এড়িয়ে চলছেন তিনি। ফলে নিকট ভবিষ্যতে কোথাও যাওয়ার পরিকল্পনা নেই বলেও জানান।

জানা গেছে, বর্তমানে রাজধানীর গুলশানে নিজ বাসায় পরিবারের সঙ্গে অবস্থান করছেন মো. সাহাবুদ্দিন। রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব ছাড়ার পর তিনি বঙ্গভবন থেকে গুলশানের বাসায় চলে আসেন। সেখান থেকেই নিয়মিত চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ নিচ্ছেন।

সাবেক রাষ্ট্রপতির চিকিৎসার একটি অংশ চলছে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ)। পাশাপাশি শারীরিক সমস্যা দেখা দিলে বাসায় থাকা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের কাছ থেকেও পরামর্শ নিচ্ছেন তিনি। বঙ্গভবন ছাড়ার পর এখন পর্যন্ত একবার সিএমএইচে গিয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন বলে জানান তিনি।

বিদেশে চিকিৎসা নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, বিষয়টি চিকিৎসকদের পরামর্শের ওপর নির্ভর করছে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা প্রয়োজন মনে করলে পরবর্তী সময়ে বিদেশে চিকিৎসার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।

এর আগে গত ২৪ জুলাই রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেন মো. সাহাবুদ্দিন। পদত্যাগপত্রে নিজের শারীরিক অসুস্থতা এবং দীর্ঘ সময় ধরে চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি উল্লেখ করেছিলেন তিনি। পদত্যাগের দুই দিন পর বঙ্গভবন ছাড়েন সাবেক রাষ্ট্রপতি।

তার পদত্যাগের পর সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অনুযায়ী ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

এদিকে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়াও এগিয়ে নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী আগামী ২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট হওয়ার কথা রয়েছে। এরই মধ্যে দুই প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ১৮ আগস্ট।

২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন মো. সাহাবুদ্দিন। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে তিনি পাঁচ বছরের জন্য রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। নির্ধারিত মেয়াদ অনুযায়ী ২০২৮ সালের এপ্রিলে তার দায়িত্ব শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে এর আগেই পদত্যাগের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ান তিনি।

বর্তমানে গুলশানের বাসায় অবস্থান করে চিকিৎসা নিচ্ছেন সাবেক এই রাষ্ট্রপতি। বিদেশে চিকিৎসার প্রয়োজন হবে কি না, সে সিদ্ধান্ত চিকিৎসকদের পরামর্শের ভিত্তিতেই নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।