সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় ইস্যুতে হাইকোর্টের রায় স্থগিত

জাতীয়

সুপ্রিম কোর্টের জন্য পৃথক ও স্বতন্ত্র সচিবালয় গঠনের বিষয়ে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের কার্যকারিতা আপাতত স্থগিত করেছেন দেশের সর্বোচ্চ আদালত। রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আপিল বিভাগ এ আদেশ দেন। একই সঙ্গে এ বিষয়ে দায়ের করা আপিলগুলোর শুনানির জন্য আগামী ১৬ জুন দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বেঞ্চ এ সিদ্ধান্ত দেন। আদালত সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আপিলের সারসংক্ষেপ জমা দেওয়ার নির্দেশও দিয়েছেন।

গত বছরের সেপ্টেম্বরে এক রিট মামলার রায়ে হাইকোর্ট সুপ্রিম কোর্টের জন্য পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠার নির্দেশ দিয়েছিলেন। একই রায়ে সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদকে সংবিধানের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ উল্লেখ করে তা বাতিল ঘোষণা করা হয়। আদালত তিন মাসের মধ্যে স্বাধীন সচিবালয় প্রতিষ্ঠারও নির্দেশনা দেন।

রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে একাধিক পক্ষ আপিল করে। সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার পক্ষে আবেদন করেন। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষ হাইকোর্টের রায় বাতিলের আবেদন জানিয়ে আপিল করে এবং আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত রায়ের কার্যকারিতা স্থগিত রাখার অনুরোধ করে।

এ ছাড়া সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ সম্পর্কিত হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণের বিরুদ্ধেও পৃথকভাবে আপিল দায়ের করা হয়। মঙ্গলবার আপিল বিভাগের বেঞ্চে এসব আপিল ও সংশ্লিষ্ট আবেদন একসঙ্গে শুনানির জন্য ওঠে।

শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষে অংশ নেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। রিট আবেদনকারীদের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। অপর আপিলকারীদের পক্ষে শুনানি করেন সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা।

আইনজীবীদের ভাষ্য অনুযায়ী, আপিল বিভাগ রাষ্ট্রপক্ষের আবেদন গ্রহণ করে হাইকোর্টের রায়ের কার্যকারিতা আপাতত স্থগিত রেখেছেন। ফলে মূল আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত হাইকোর্টের নির্দেশ বাস্তবায়নের বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত পদক্ষেপ কার্যকর হবে না।

উল্লেখ্য, হাইকোর্টের রায়ের পর অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে অধ্যাদেশ জারির মাধ্যমে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের কার্যক্রম শুরু হয়েছিল। পরবর্তীতে জাতীয় সংসদে এ-সংক্রান্ত অধ্যাদেশ বাতিল করে নতুন আইন পাস করা হয়, যার মাধ্যমে সচিবালয় বিলুপ্তির বিধান যুক্ত করা হয়। নতুন আইনে সচিবালয়ের অধীন বাজেট, প্রকল্প ও প্রশাসনিক কার্যক্রম আইন ও বিচার বিভাগের অধীনে ন্যস্ত করার কথাও উল্লেখ রয়েছে।

এ অবস্থায় সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের ভবিষ্যৎ কাঠামো ও সংবিধান সংশ্লিষ্ট প্রশ্নগুলোর চূড়ান্ত নিষ্পত্তির দিকে এখন নজর থাকছে আইন অঙ্গনের।

দৈনিক টার্গেট

দৈনিক টার্গেট বাংলাদেশী সংবাদ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।