হিংসা-বিদ্বেষ যেভাবে নেক আমল ধ্বংস করে

  • দৈনিক টার্গেট
  • প্রকাশ: ০৭:৩১:৪৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
  • ৪ বার পঠিত হয়েছে

মহান আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তারা কি মানুষের প্রতি ঈর্ষা করে, আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তাদের যা দিয়েছেন তার জন্য?’ (সুরা নিসা: ৫৪)

মানব ইতিহাসের প্রথম অপরাধ বা কাবিল কর্তৃক হাবিলকে হত্যার মূলে ছিল এই হিংসা ও বিদ্বেষ। হিংসা মানুষের অজান্তেই নেক আমল পুড়িয়ে ছাই করে দেয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) কঠোর সতর্কবাণী উচ্চারণ করে বলেছেন, ‘তোমরা হিংসা থেকে বেঁচে থাকো। কারণ আগুন যেমন কাঠ খেয়ে ফেলে, হিংসাও তেমনি নেক আমল খেয়ে ফেলে।’ (সুনানে আবু দাউদ: ৪৯০৩)

বাস্তবে হিংসুক ব্যক্তি অন্যের ক্ষতি করার আগে নিজের অন্তরের শান্তিকেই ধ্বংস করে। অন্যের নিয়ামত দেখে তার ভেতরে অস্থিরতার যে আগুন জ্বলে, তা তাকে ক্রমেই গিবত, অপবাদ ও শত্রুতার মতো বড় বড় গুনাহের দিকে ঠেলে দেয়।

হিংসার বিপরীতে ইসলামের শিক্ষা হলো অন্যের জন্য কল্যাণ কামনা করা। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের কেউ ততক্ষণ পর্যন্ত পূর্ণ ইমানদার হতে পারবে না, যতক্ষণ না সে নিজের জন্য যা পছন্দ করে, তার ভাইয়ের জন্যও তা পছন্দ করে।’ (সহিহ বুখারি: ১৩)

১. অন্যের সফলতা দেখলে মনে মনে হিংসা না করে তার বরকতের জন্য দোয়া করা এবং নিজের জন্য আল্লাহর অনুগ্রহ কামনা করা।

২. নিজের জীবনে থাকা অসংখ্য নিয়ামতের কথা স্মরণ করে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করা।

৩. যার প্রতি অন্তরে হিংসা বা অস্বস্তি তৈরি হয়, গোপনে তার জন্য বেশি বেশি ভালো দোয়া করা ও তার প্রশংসা করা।

পবিত্র কোরআনের ষষ্ঠ সুরা হলো সুরা আনআম (سورة الأنعام)। ‘আনআম’ শব্দের অর্থ গবাদিপশু। মক্কায় অবতীর্ণ এই সুরায় তাওহিদ (আল্লাহর একত্ববাদ), রিসালাত, আখিরাত, জান্নাত-জাহান্নাম এবং সৃষ্টির নিখিল রহস্য নিয়ে অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও নিখুঁত আলোচনা রয়েছে। ১০টি গুরুত্বপূর্ণ অনুচ্ছেদ বা রুকু এবং ১৬৫টি আয়াতবিশিষ্ট…

আল্লামা নুরুল হক (রহ.) বট্টগ্রাম হামিদিয়া মাদ্রাসার মুহতামিম হিসেবে দীর্ঘ প্রায় ৫০ বছর অত্যন্ত সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। কর্মজীবনে তিনি জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের কুমিল্লা জেলার সাবেক সভাপতি এবং হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের কুমিল্লা জেলার সভাপতি হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।

আধুনিকতার এই যুগেও ঘরের বাইরে পা রাখলেই নারীদের প্রগতির চেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়ায় নিজস্ব নিরাপত্তার বিষয়টি। ইভ টিজিং, কটূক্তি কিংবা হয়রানির শঙ্কা যেন বহু নারীর নিত্যদিনের অভিজ্ঞতা। এসব ঘটনা তাদের স্বাভাবিক চলাফেরা ও আত্মবিশ্বাসকে বাধাগ্রস্ত করছে। তাই নারীর সুরক্ষায় অন্যের ওপর নির্ভরশীল না হয়ে নিজের

জনপ্রিয় টার্গেট

হিংসা-বিদ্বেষ যেভাবে নেক আমল ধ্বংস করে

প্রকাশ: ০৭:৩১:৪৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬

মহান আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তারা কি মানুষের প্রতি ঈর্ষা করে, আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তাদের যা দিয়েছেন তার জন্য?’ (সুরা নিসা: ৫৪)

মানব ইতিহাসের প্রথম অপরাধ বা কাবিল কর্তৃক হাবিলকে হত্যার মূলে ছিল এই হিংসা ও বিদ্বেষ। হিংসা মানুষের অজান্তেই নেক আমল পুড়িয়ে ছাই করে দেয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) কঠোর সতর্কবাণী উচ্চারণ করে বলেছেন, ‘তোমরা হিংসা থেকে বেঁচে থাকো। কারণ আগুন যেমন কাঠ খেয়ে ফেলে, হিংসাও তেমনি নেক আমল খেয়ে ফেলে।’ (সুনানে আবু দাউদ: ৪৯০৩)

বাস্তবে হিংসুক ব্যক্তি অন্যের ক্ষতি করার আগে নিজের অন্তরের শান্তিকেই ধ্বংস করে। অন্যের নিয়ামত দেখে তার ভেতরে অস্থিরতার যে আগুন জ্বলে, তা তাকে ক্রমেই গিবত, অপবাদ ও শত্রুতার মতো বড় বড় গুনাহের দিকে ঠেলে দেয়।

হিংসার বিপরীতে ইসলামের শিক্ষা হলো অন্যের জন্য কল্যাণ কামনা করা। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের কেউ ততক্ষণ পর্যন্ত পূর্ণ ইমানদার হতে পারবে না, যতক্ষণ না সে নিজের জন্য যা পছন্দ করে, তার ভাইয়ের জন্যও তা পছন্দ করে।’ (সহিহ বুখারি: ১৩)

১. অন্যের সফলতা দেখলে মনে মনে হিংসা না করে তার বরকতের জন্য দোয়া করা এবং নিজের জন্য আল্লাহর অনুগ্রহ কামনা করা।

২. নিজের জীবনে থাকা অসংখ্য নিয়ামতের কথা স্মরণ করে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করা।

৩. যার প্রতি অন্তরে হিংসা বা অস্বস্তি তৈরি হয়, গোপনে তার জন্য বেশি বেশি ভালো দোয়া করা ও তার প্রশংসা করা।

পবিত্র কোরআনের ষষ্ঠ সুরা হলো সুরা আনআম (سورة الأنعام)। ‘আনআম’ শব্দের অর্থ গবাদিপশু। মক্কায় অবতীর্ণ এই সুরায় তাওহিদ (আল্লাহর একত্ববাদ), রিসালাত, আখিরাত, জান্নাত-জাহান্নাম এবং সৃষ্টির নিখিল রহস্য নিয়ে অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও নিখুঁত আলোচনা রয়েছে। ১০টি গুরুত্বপূর্ণ অনুচ্ছেদ বা রুকু এবং ১৬৫টি আয়াতবিশিষ্ট…

আল্লামা নুরুল হক (রহ.) বট্টগ্রাম হামিদিয়া মাদ্রাসার মুহতামিম হিসেবে দীর্ঘ প্রায় ৫০ বছর অত্যন্ত সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। কর্মজীবনে তিনি জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের কুমিল্লা জেলার সাবেক সভাপতি এবং হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের কুমিল্লা জেলার সভাপতি হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।

আধুনিকতার এই যুগেও ঘরের বাইরে পা রাখলেই নারীদের প্রগতির চেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়ায় নিজস্ব নিরাপত্তার বিষয়টি। ইভ টিজিং, কটূক্তি কিংবা হয়রানির শঙ্কা যেন বহু নারীর নিত্যদিনের অভিজ্ঞতা। এসব ঘটনা তাদের স্বাভাবিক চলাফেরা ও আত্মবিশ্বাসকে বাধাগ্রস্ত করছে। তাই নারীর সুরক্ষায় অন্যের ওপর নির্ভরশীল না হয়ে নিজের