ঝড়বৃষ্টি ও বজ্রপাতের সময় ইসলাম যে দোয়াগুলো পড়তে উৎসাহ দেয়, তা জানলে মন থাকবে শান্ত ও নিরাপদ

ঝড়বৃষ্টির দিনে যেসব দোয়া পড়া সুন্নত

  • দৈনিক টার্গেট
  • প্রকাশ: ০৫:৫৮:১২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ জুলাই ২০২৫
  • ৪২৫ বার পঠিত হয়েছে

প্রকৃতির পরিবর্তন ও দুর্যোগ আমাদের জীবনের অঙ্গ। বিশেষ করে বর্ষাকাল এলেই হঠাৎ ঝড়বৃষ্টি, বজ্রপাত, প্রবল বাতাস বা শিলাবৃষ্টি আমাদের আশপাশে দেখা দেয়। এই সময়টি অনেকের জন্য আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

ইসলাম এই ধরনের পরিস্থিতিতে আতঙ্কিত না হয়ে আল্লাহর উপর ভরসা রেখে কিছু বিশেষ দোয়া ও করণীয় পালনের নির্দেশ দিয়েছে।

আজকের এই প্রতিবেদনে থাকছে ঝড়বৃষ্টির সময় পড়ার সুন্নত দোয়া, করণীয় আচরণ ও কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ।

ইসলামে প্রাকৃতিক দুর্যোগকে শুধু ভোগান্তি হিসেবে দেখা হয় না, বরং এটিকে আল্লাহর কুদরতের নিদর্শন হিসেবে বিবেচনা করা হয়। নবী মুহাম্মদ (সা.) ঝড় বা বজ্রপাতের সময় দোয়া করতেন, আতঙ্কিত না হয়ে আল্লাহর কাছে সাহায্য চাইতেন এবং সাহাবিদেরও তাই করতে উৎসাহ দিতেন।

ঝড়বৃষ্টির সময় যেসব দোয়া পড়া সুন্নত

১. উপকারী বৃষ্টির জন্য দোয়া

اللَّهُمَّ صَيِّبًا نَافِعًا

উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা সাইইবান নাফিআন

অর্থ: হে আল্লাহ! উপকারী বৃষ্টি বর্ষণ করুন।

(সহীহ বুখারী: ১০৩২)

২. ঝড় বা বাতাসের সময় দোয়া

اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ خَيْرَهَا وَخَيْرَ مَا فِيهَا وَخَيْرَ مَا أُرْسِلَتْ بِهِ

উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকা খাইরাহা ওয়া খাইরা মা ফিহা

অর্থ: হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে এ বাতাসের ভালো ও এর মাধ্যমে যা পাঠানো হয়েছে তার ভালো চাইছি।

(সহীহ মুসলিম)

৩. বজ্রপাতের সময় পাঠযোগ্য আয়াত

سُبْحَانَ الَّذِي يُسَبِّحُ الرَّعْدُ بِحَمْدِهِ وَالْمَلَائِكَةُ مِنْ خِيفَتِهِ

(সূরা রা’দ: ১৩)

অর্থ: পবিত্র মহান সেই সত্তা, যার প্রশংসায় বজ্রধ্বনি ও ফেরেশতারা তাসবিহ পাঠ করে।

ঝড়বৃষ্টির সময় করণীয়

ঘরে অবস্থান করুন: নিরাপদ আশ্রয়ে থাকুন, খোলা মাঠ বা ধাতব জিনিসের কাছ থেকে দূরে থাকুন।

বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি থেকে সাবধান: বজ্রপাতের সময় ফ্রিজ, টিভি, মোবাইল চার্জার ব্যবহার না করাই ভালো।

পরিবারকে সচেতন করুন: ছোটদের ভয় না দেখিয়ে দোয়া ও সতর্কতার মাধ্যমে সাহস জাগান।

ইসলাম আমাদের কী শেখায়?

ঝড়-বৃষ্টি, বজ্রপাত এসব প্রাকৃতিক দুর্যোগে আতঙ্কিত না হয়ে ধৈর্য, সওয়াব ও নিরাপত্তার জন্য আল্লাহর দিকে ফিরে যাওয়া আমাদের ইমানেরই অংশ। নবীজি (সা.) এর মতো আমরাও এই সময়গুলোতে আল্লাহর রহমত কামনা করে আশ্রয় চাইব, কারণ তিনিই একমাত্র রক্ষা করতে পারেন সব ধরনের ক্ষতি থেকে।

ঝড়বৃষ্টির দিনে কেবল বাহ্যিক সতর্কতাই নয়, বরং আধ্যাত্মিক প্রস্তুতিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মনে রাখবেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ আমাদের জন্য এক ধরনের ইমতিহানও হতে পারে। তাই নিরাপদে থেকে দোয়ার মাধ্যমে আল্লাহর কাছে সাহায্য চাওয়া প্রতিটি মুসলমানের দায়িত্ব।

জনপ্রিয় টার্গেট

আজকের নামাজের সময়সূচি: ১৮ অক্টোবর ২০২৬

ঝড়বৃষ্টি ও বজ্রপাতের সময় ইসলাম যে দোয়াগুলো পড়তে উৎসাহ দেয়, তা জানলে মন থাকবে শান্ত ও নিরাপদ

ঝড়বৃষ্টির দিনে যেসব দোয়া পড়া সুন্নত

প্রকাশ: ০৫:৫৮:১২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ জুলাই ২০২৫

প্রকৃতির পরিবর্তন ও দুর্যোগ আমাদের জীবনের অঙ্গ। বিশেষ করে বর্ষাকাল এলেই হঠাৎ ঝড়বৃষ্টি, বজ্রপাত, প্রবল বাতাস বা শিলাবৃষ্টি আমাদের আশপাশে দেখা দেয়। এই সময়টি অনেকের জন্য আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

ইসলাম এই ধরনের পরিস্থিতিতে আতঙ্কিত না হয়ে আল্লাহর উপর ভরসা রেখে কিছু বিশেষ দোয়া ও করণীয় পালনের নির্দেশ দিয়েছে।

আজকের এই প্রতিবেদনে থাকছে ঝড়বৃষ্টির সময় পড়ার সুন্নত দোয়া, করণীয় আচরণ ও কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ।

ইসলামে প্রাকৃতিক দুর্যোগকে শুধু ভোগান্তি হিসেবে দেখা হয় না, বরং এটিকে আল্লাহর কুদরতের নিদর্শন হিসেবে বিবেচনা করা হয়। নবী মুহাম্মদ (সা.) ঝড় বা বজ্রপাতের সময় দোয়া করতেন, আতঙ্কিত না হয়ে আল্লাহর কাছে সাহায্য চাইতেন এবং সাহাবিদেরও তাই করতে উৎসাহ দিতেন।

ঝড়বৃষ্টির সময় যেসব দোয়া পড়া সুন্নত

১. উপকারী বৃষ্টির জন্য দোয়া

اللَّهُمَّ صَيِّبًا نَافِعًا

উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা সাইইবান নাফিআন

অর্থ: হে আল্লাহ! উপকারী বৃষ্টি বর্ষণ করুন।

(সহীহ বুখারী: ১০৩২)

২. ঝড় বা বাতাসের সময় দোয়া

اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ خَيْرَهَا وَخَيْرَ مَا فِيهَا وَخَيْرَ مَا أُرْسِلَتْ بِهِ

উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকা খাইরাহা ওয়া খাইরা মা ফিহা

অর্থ: হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে এ বাতাসের ভালো ও এর মাধ্যমে যা পাঠানো হয়েছে তার ভালো চাইছি।

(সহীহ মুসলিম)

৩. বজ্রপাতের সময় পাঠযোগ্য আয়াত

سُبْحَانَ الَّذِي يُسَبِّحُ الرَّعْدُ بِحَمْدِهِ وَالْمَلَائِكَةُ مِنْ خِيفَتِهِ

(সূরা রা’দ: ১৩)

অর্থ: পবিত্র মহান সেই সত্তা, যার প্রশংসায় বজ্রধ্বনি ও ফেরেশতারা তাসবিহ পাঠ করে।

ঝড়বৃষ্টির সময় করণীয়

ঘরে অবস্থান করুন: নিরাপদ আশ্রয়ে থাকুন, খোলা মাঠ বা ধাতব জিনিসের কাছ থেকে দূরে থাকুন।

বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি থেকে সাবধান: বজ্রপাতের সময় ফ্রিজ, টিভি, মোবাইল চার্জার ব্যবহার না করাই ভালো।

পরিবারকে সচেতন করুন: ছোটদের ভয় না দেখিয়ে দোয়া ও সতর্কতার মাধ্যমে সাহস জাগান।

ইসলাম আমাদের কী শেখায়?

ঝড়-বৃষ্টি, বজ্রপাত এসব প্রাকৃতিক দুর্যোগে আতঙ্কিত না হয়ে ধৈর্য, সওয়াব ও নিরাপত্তার জন্য আল্লাহর দিকে ফিরে যাওয়া আমাদের ইমানেরই অংশ। নবীজি (সা.) এর মতো আমরাও এই সময়গুলোতে আল্লাহর রহমত কামনা করে আশ্রয় চাইব, কারণ তিনিই একমাত্র রক্ষা করতে পারেন সব ধরনের ক্ষতি থেকে।

ঝড়বৃষ্টির দিনে কেবল বাহ্যিক সতর্কতাই নয়, বরং আধ্যাত্মিক প্রস্তুতিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মনে রাখবেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ আমাদের জন্য এক ধরনের ইমতিহানও হতে পারে। তাই নিরাপদে থেকে দোয়ার মাধ্যমে আল্লাহর কাছে সাহায্য চাওয়া প্রতিটি মুসলমানের দায়িত্ব।