তহবিল সংকটে খাদ্য সহায়তা বঞ্চিত হতে যাচ্ছেন গাজার ৫ লাখ মানুষ

  • দৈনিক টার্গেট
  • প্রকাশ: ০৯:১২:৫০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬
  • ৭ বার পঠিত হয়েছে

লন্ডন থেকে প্রকাশিত মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক সংবাদমাধ্যম আল আরব আল–জাদিদ বা দ্য নিউ আরবের খবরে বলা হয়েছে, ডব্লিউএফপি জানিয়েছে—তারা তাদের মাসিক সহায়তা পাওয়া মানুষের সংখ্যা ১৬ লাখ থেকে কমিয়ে ১১ লাখে নামিয়ে আনছে।

এ ছাড়া, খাদ্যের বরাদ্দ অর্ধেকে নামিয়ে আনা হয়েছে, ৭৫ হাজার পরিবারে নগদ অর্থ সহায়তা কমিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং যাদের রান্না করার সুযোগ নেই তাদের জন্য দৈনিক গরম খাবারের ব্যবস্থা ২ লাখ ৫০ হাজার থেকে কমিয়ে ১ লাখ ৫০ হাজার ইউনিটে নিয়ে আসা হয়েছে। ফলে দুর্গম এলাকার কিছু কিছু পরিবার এখন একদিন পর পর মাত্র একবার গরম খাবার পাচ্ছে। বৈশ্বিক এই সংস্থাটি উল্লেখ করেছে, গাজার মোট জনসংখ্যার দুই-তৃতীয়াংশ বা প্রায় ১৪ লাখ মানুষ বর্তমানে সংকটজনক বা তার চেয়েও ভয়াবহ খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। এর মধ্যে প্রায় ২ লাখ মানুষ রয়েছেন অতি জরুরি বা জরুরি অবস্থায়।

গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া গাজা যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে পরবর্তীতে পুরো গাজা পুনর্নির্মাণের কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু হামাসের অস্ত্রসমর্পণ এবং ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের শর্তযুক্ত এই যুদ্ধবিরতি চুক্তি বাস্তবায়নে খুব একটা অগ্রগতি হয়নি।

ডব্লিউএফপির ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী পরিচালক কার্ল স্কাউ গাজা থেকে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, ‘যুদ্ধবিরতি চুক্তির এক বছর পেরিয়ে গেলেও এখানকার জীবন এখনও অত্যন্ত নির্মম। বসবাসের জন্য উপযুক্ত কোনো আশ্রয় নেই… মৌলিক সেবার সুবিধা নেই। কোনো নিরাপত্তা বা জীবনের নিশ্চিন্ততা নেই।’ তিনি যোগ করেন, ‘ঠিক এমন এক সময়ে এই সহায়তা কাটছাঁট করা হচ্ছে, যখন আমরা চতুর্থ শীতের মুখোমুখি হতে যাচ্ছি। আমি এখানকার শীতকাল দেখেছি, যা সত্যি ভীষণ নির্মম।’

গাজা এবং ইসরায়েল-অধ্যুষিত পশ্চিম তীরে তাদের জরুরি কার্যক্রম চালু রাখতে ডব্লিউএফপি জানিয়েছে যে, আগামী ছয় মাসের জন্য তাদের অবিলম্বে ৪৫ কোটি ডলার প্রয়োজন। স্কাউ বলেন, ‘আমরা বিশ্বকে বলছি—এখন মুখ ফিরিয়ে নেওয়ার সময় নয়। এই সহায়তা বজায় রাখতে, অর্জিত অগ্রগতি রক্ষা করতে এবং দ্রুত ঘুরে দাঁড়ানোর প্রক্রিয়া শুরু করতে সবাইকে এগিয়ে আসার এটাই উপযুক্ত সময়।’

ইসরায়েলি বাহিনী এখনও গাজার ৬০ শতাংশের বেশি এলাকা দখল করে রেখেছে এবং প্রায় প্রতিদিনই বিমান হামলা চালাচ্ছে। অন্যদিকে, যেসব এলাকায় ২০ লাখেরও বেশি ফিলিস্তিনি বসবাস করছেন, তার বেশিরভাগ অংশ নিয়ন্ত্রণ করছে হামাস। সাধারণ মানুষ বেশিরভাগই অস্থায়ী আশ্রয়ে দিন কাটাচ্ছেন এবং ত্রাণ সংস্থাগুলোর মতে, সেখানে সাহায্যের পরিমাণ একেবারেই অপ্রতুল।

গাজার সরকারি জনসংযোগ বিভাগ ডব্লিউএফপির এই ঘোষণাকে ‘মহাবিপর্যয়কর’ বলে বর্ণনা করেছে এবং বলেছে, এতে করে এলাকায় দুর্ভিক্ষ আরও দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। তারা এটি রোধ করতে ত্রাণ সংস্থাগুলোকে আরও তহবিল দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

মধ্য গাজা উপত্যকার নুসিরাত শরণার্থী শিবিরের একটি অস্থায়ী তাঁবুর পাশে দাঁড়িয়ে সাবরিন কুহাইল নামে এক ফিলিস্তিনি নারী বলেন, ‘এমন কঠিন পরিস্থিতি ও দুঃসহ জীবনের ওপর তোমরা আমাদের জীবনকে আরও কঠিন করে তুলতে চাইছ।’ তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘যুদ্ধ, ধ্বংসলীলা, অবরোধ আর অনবরত রক্তপাত দিয়ে তোমরা আমাদের তিনটি বছর ধরে ভূখা রেখেছ। আমাদের কাছে আর কী চাও তোমরা? অনেক হয়েছে, আর না, আমরা ক্লান্ত হয়ে গেছি।’

হরমুজে ইরানের হামলায় ভেসে আসা পণ্য খুঁজতে মানুষের ভিড়

হরমুজে ইরানের হামলায় ভেসে আসা পণ্য খুঁজতে মানুষের ভিড়

হরমুজ প্রণালিতে ইরানের একের পর এক হামলায় সমুদ্রে ভেসে আসা পণ্য সংগ্রহের আশায় ভিড় করছেন স্থানীয় জেলে ও সাধারণ মানুষ। গত ১০ দিনে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ দিয়ে চলাচলকারী অন্তত ১৫টি কনটেইনারবাহী জাহাজ হামলার শিকার হয়েছে।

ইয়েমেনে সরকারি বাহিনীর শিবিরে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, নিহত ৫৩

ইয়েমেনে সরকারি বাহিনীর শিবিরে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, নিহত ৫৩

ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় শাবওয়া প্রদেশে সরকারি বাহিনীর একটি সামরিক শিবিরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা। আজ সোমবারের (১৯ অক্টোবর) এই হামলায় অন্তত ৫৩ জন সেনাসদস্য নিহত এবং আরও ২০০ জন আহত হয়েছেন।

উপসাগরীয় অঞ্চলে নতুন ‘প্রতিরক্ষা অংশীদারত্বের’ আবির্ভাব, ঘোষণা শিগগির

উপসাগরীয় অঞ্চলে নতুন ‘প্রতিরক্ষা অংশীদারত্বের’ আবির্ভাব, ঘোষণা শিগগির

কাতারের উপপ্রধানমন্ত্রী শেখ সৌদ বিন আবদুর রহমান আল থানি জানিয়েছেন, কাতার পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে আঞ্চলিক অংশীদারদের সঙ্গে মিলে নতুন ‘প্রতিরক্ষা অংশীদারত্ব’ গড়ে তুলতে চায়। এই বিষয়ে শিগগির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হবে।

জনপ্রিয় টার্গেট

তহবিল সংকটে খাদ্য সহায়তা বঞ্চিত হতে যাচ্ছেন গাজার ৫ লাখ মানুষ

প্রকাশ: ০৯:১২:৫০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬

লন্ডন থেকে প্রকাশিত মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক সংবাদমাধ্যম আল আরব আল–জাদিদ বা দ্য নিউ আরবের খবরে বলা হয়েছে, ডব্লিউএফপি জানিয়েছে—তারা তাদের মাসিক সহায়তা পাওয়া মানুষের সংখ্যা ১৬ লাখ থেকে কমিয়ে ১১ লাখে নামিয়ে আনছে।

এ ছাড়া, খাদ্যের বরাদ্দ অর্ধেকে নামিয়ে আনা হয়েছে, ৭৫ হাজার পরিবারে নগদ অর্থ সহায়তা কমিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং যাদের রান্না করার সুযোগ নেই তাদের জন্য দৈনিক গরম খাবারের ব্যবস্থা ২ লাখ ৫০ হাজার থেকে কমিয়ে ১ লাখ ৫০ হাজার ইউনিটে নিয়ে আসা হয়েছে। ফলে দুর্গম এলাকার কিছু কিছু পরিবার এখন একদিন পর পর মাত্র একবার গরম খাবার পাচ্ছে। বৈশ্বিক এই সংস্থাটি উল্লেখ করেছে, গাজার মোট জনসংখ্যার দুই-তৃতীয়াংশ বা প্রায় ১৪ লাখ মানুষ বর্তমানে সংকটজনক বা তার চেয়েও ভয়াবহ খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। এর মধ্যে প্রায় ২ লাখ মানুষ রয়েছেন অতি জরুরি বা জরুরি অবস্থায়।

গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া গাজা যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে পরবর্তীতে পুরো গাজা পুনর্নির্মাণের কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু হামাসের অস্ত্রসমর্পণ এবং ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের শর্তযুক্ত এই যুদ্ধবিরতি চুক্তি বাস্তবায়নে খুব একটা অগ্রগতি হয়নি।

ডব্লিউএফপির ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী পরিচালক কার্ল স্কাউ গাজা থেকে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, ‘যুদ্ধবিরতি চুক্তির এক বছর পেরিয়ে গেলেও এখানকার জীবন এখনও অত্যন্ত নির্মম। বসবাসের জন্য উপযুক্ত কোনো আশ্রয় নেই… মৌলিক সেবার সুবিধা নেই। কোনো নিরাপত্তা বা জীবনের নিশ্চিন্ততা নেই।’ তিনি যোগ করেন, ‘ঠিক এমন এক সময়ে এই সহায়তা কাটছাঁট করা হচ্ছে, যখন আমরা চতুর্থ শীতের মুখোমুখি হতে যাচ্ছি। আমি এখানকার শীতকাল দেখেছি, যা সত্যি ভীষণ নির্মম।’

গাজা এবং ইসরায়েল-অধ্যুষিত পশ্চিম তীরে তাদের জরুরি কার্যক্রম চালু রাখতে ডব্লিউএফপি জানিয়েছে যে, আগামী ছয় মাসের জন্য তাদের অবিলম্বে ৪৫ কোটি ডলার প্রয়োজন। স্কাউ বলেন, ‘আমরা বিশ্বকে বলছি—এখন মুখ ফিরিয়ে নেওয়ার সময় নয়। এই সহায়তা বজায় রাখতে, অর্জিত অগ্রগতি রক্ষা করতে এবং দ্রুত ঘুরে দাঁড়ানোর প্রক্রিয়া শুরু করতে সবাইকে এগিয়ে আসার এটাই উপযুক্ত সময়।’

ইসরায়েলি বাহিনী এখনও গাজার ৬০ শতাংশের বেশি এলাকা দখল করে রেখেছে এবং প্রায় প্রতিদিনই বিমান হামলা চালাচ্ছে। অন্যদিকে, যেসব এলাকায় ২০ লাখেরও বেশি ফিলিস্তিনি বসবাস করছেন, তার বেশিরভাগ অংশ নিয়ন্ত্রণ করছে হামাস। সাধারণ মানুষ বেশিরভাগই অস্থায়ী আশ্রয়ে দিন কাটাচ্ছেন এবং ত্রাণ সংস্থাগুলোর মতে, সেখানে সাহায্যের পরিমাণ একেবারেই অপ্রতুল।

গাজার সরকারি জনসংযোগ বিভাগ ডব্লিউএফপির এই ঘোষণাকে ‘মহাবিপর্যয়কর’ বলে বর্ণনা করেছে এবং বলেছে, এতে করে এলাকায় দুর্ভিক্ষ আরও দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। তারা এটি রোধ করতে ত্রাণ সংস্থাগুলোকে আরও তহবিল দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

মধ্য গাজা উপত্যকার নুসিরাত শরণার্থী শিবিরের একটি অস্থায়ী তাঁবুর পাশে দাঁড়িয়ে সাবরিন কুহাইল নামে এক ফিলিস্তিনি নারী বলেন, ‘এমন কঠিন পরিস্থিতি ও দুঃসহ জীবনের ওপর তোমরা আমাদের জীবনকে আরও কঠিন করে তুলতে চাইছ।’ তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘যুদ্ধ, ধ্বংসলীলা, অবরোধ আর অনবরত রক্তপাত দিয়ে তোমরা আমাদের তিনটি বছর ধরে ভূখা রেখেছ। আমাদের কাছে আর কী চাও তোমরা? অনেক হয়েছে, আর না, আমরা ক্লান্ত হয়ে গেছি।’

হরমুজে ইরানের হামলায় ভেসে আসা পণ্য খুঁজতে মানুষের ভিড়

হরমুজে ইরানের হামলায় ভেসে আসা পণ্য খুঁজতে মানুষের ভিড়

হরমুজ প্রণালিতে ইরানের একের পর এক হামলায় সমুদ্রে ভেসে আসা পণ্য সংগ্রহের আশায় ভিড় করছেন স্থানীয় জেলে ও সাধারণ মানুষ। গত ১০ দিনে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ দিয়ে চলাচলকারী অন্তত ১৫টি কনটেইনারবাহী জাহাজ হামলার শিকার হয়েছে।

ইয়েমেনে সরকারি বাহিনীর শিবিরে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, নিহত ৫৩

ইয়েমেনে সরকারি বাহিনীর শিবিরে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, নিহত ৫৩

ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় শাবওয়া প্রদেশে সরকারি বাহিনীর একটি সামরিক শিবিরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা। আজ সোমবারের (১৯ অক্টোবর) এই হামলায় অন্তত ৫৩ জন সেনাসদস্য নিহত এবং আরও ২০০ জন আহত হয়েছেন।

উপসাগরীয় অঞ্চলে নতুন ‘প্রতিরক্ষা অংশীদারত্বের’ আবির্ভাব, ঘোষণা শিগগির

উপসাগরীয় অঞ্চলে নতুন ‘প্রতিরক্ষা অংশীদারত্বের’ আবির্ভাব, ঘোষণা শিগগির

কাতারের উপপ্রধানমন্ত্রী শেখ সৌদ বিন আবদুর রহমান আল থানি জানিয়েছেন, কাতার পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে আঞ্চলিক অংশীদারদের সঙ্গে মিলে নতুন ‘প্রতিরক্ষা অংশীদারত্ব’ গড়ে তুলতে চায়। এই বিষয়ে শিগগির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হবে।