এবার এডেন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

  • দৈনিক টার্গেট
  • প্রকাশ: ১২:৫৬:৫৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
  • ১৮ বার পঠিত হয়েছে

ইয়েমেনের তথ্যমন্ত্রী মোয়াম্মার আল-ইরিয়ানি জানান, শুক্রবার এডেন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়ের কাছে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র এসে পড়ে। এ সময় একটি উড়োজাহাজ উড্ডয়নের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। ক্ষেপণাস্ত্রগুলো উড়োজাহাজটি থেকে প্রায় ৫০০ মিটার দূরে পড়ে।

বিমানবন্দরে এ হামলাকে ‘আন্তর্জাতিক আইন ও রীতিনীতির গুরুতর লঙ্ঘন’ বলেও অভিহিত করেন তথ্যমন্ত্রী।

শুক্রবার এক সামরিক সূত্রের বরাত দিয়ে বিবৃতিতে হুতিরা জানায়, তারা এডেন প্রদেশের বদর সামরিক শিবিরে ‘সৌদি বাহিনীর কমান্ড সদর দপ্তর’ এবং একটি অস্ত্রভান্ডার লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।

ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী শুক্রবার এর আগে জানিয়েছিল, রাজধানী সানার উত্তর-পূর্বে অবস্থিত মারিব প্রদেশে তাদের সেনারা অগ্রসর হয়েছেন। সামরিক মুখপাত্র মাজেদ আল-নাজিলি বলেন, বিমান সহায়তায় সরকারি বাহিনী প্রদেশটির পূর্বাঞ্চলে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ভূখণ্ডের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে এবং ‘গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানগুলো’ সুরক্ষিত করেছে।

তিনি আরও দাবি করেন, ২৪ ঘণ্টায় ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী ৪৩০ জনের বেশি হুতি যোদ্ধাকে ‘নিষ্ক্রিয়’ করেছে। এ ছাড়া হুতিদের ১০০ টির বেশি যানবাহন ও সামরিক সরঞ্জাম ধ্বংস বা অকার্যকর করে দেওয়া হয়েছে।

যুদ্ধের গুরুত্বপূর্ণ রণক্ষেত্রে পরিণত হওয়া তাইজ গভর্নরেটেও হুতিদের কয়েকটি ‘বড় ধরনের’ হামলা প্রতিহত করার দাবি করেছে ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী। এতে গোষ্ঠীটির ‘ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি’ হয়েছে বলে দাবি তাদের। তাইজ এলাকায় হুতিদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি বিশেষায়িত ড্রোন পরিচালনাকারী দলকে আটক করার দাবিও করেছে সরকারি বাহিনী।

গত কয়েক সপ্তাহে ইয়েমেনের তৃতীয় বৃহত্তম শহর তাইজকে ঘিরে ফেলেছে হুতিরা। শহরটির দক্ষিণে এডেনের সঙ্গে সংযোগকারী প্রধান সড়ক বন্ধ করে দেওয়ায় ব্যাপকসংখ্যক মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন এবং মানবিক সংকট আরও তীব্র হয়েছে।

এদিকে শুক্রবার সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছে, ইয়েমেনের হুতিদের বিরুদ্ধে লড়াইরত তাদের বাহিনী সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদসহ দেশটির বিভিন্ন এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ভূপাতিত করেছে। সৌদি আরবের অভিযোগ, হুতিদের অস্ত্র ও প্রশিক্ষণ দিয়ে দেশটির বিরুদ্ধে হামলা চালাতে উৎসাহিত করছে ইরান।

তবে শুক্রবার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। মন্ত্রণালয়ের বক্তব্য, হুতিদের কোনো সামরিক অভিযানে তেহরানের ভূমিকা নেই। একই সঙ্গে হুতি ও রিয়াদের মধ্যে মধ্যস্থতা করার প্রস্তাবও পুনর্ব্যক্ত করেছে ইরান।

২০১৪ সালে হুতিরা ইয়েমেনের রাজধানী সানা দখল করে এবং সরকারকে রাজধানী ছেড়ে পালাতে বাধ্য করে। এরপর শুরু হয় গৃহযুদ্ধ। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সহায়তা করতে ২০১৫ সালে সৌদি আরবের নেতৃত্বে একটি আন্তর্জাতিক সামরিক জোট ইয়েমেনে হস্তক্ষেপ করে। এরপর দুই পক্ষের মধ্যে বছরের পর বছর ধরে সংঘর্ষ চলে।

জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় ২০২২ সালে একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়, যার ফলে অধিকাংশ সংঘর্ষ বন্ধ হয়। তবে গত জুলাইয়ে হুতিরা সৌদি আরবের বন্দর এবং বাব আল-মানদেব প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের ওপর নৌ অবরোধ ঘোষণা করার পর থেকে ইয়েমেনে উত্তেজনা বেড়েছে।

সেপ্টেম্বরে হুতিরা ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলের বন্দরনগরী মোখায় আকস্মিক স্থল অভিযান চালায়। এতে সরকারি বাহিনীর অনুগত সেনারা শহরটি থেকে পিছু হটতে বাধ্য হন।

একই মাসে হুতিরা আবারও পশ্চিম উপকূল ও বাব আল-মানদেব প্রণালির আশপাশে অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন এলাকা দখল করে। এসব এলাকার মধ্যে প্রণালিটির কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ মায়ুন দ্বীপও রয়েছে।

মার্কিন অবরোধের মধ্যেও এলপিজি ও জেট জ্বালানি রপ্তানি করছে ইরান

মার্কিন অবরোধের মধ্যেও এলপিজি ও জেট জ্বালানি রপ্তানি করছে ইরান

মার্কিন নৌ অবরোধের মধ্যেও তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) ও জেট জ্বালানির কিছু চালান রপ্তানি করতে সক্ষম হয়েছে ইরান। জাহাজ চলাচল-সংক্রান্ত গোয়েন্দা তথ্য, স্যাটেলাইট চিত্র এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের বরাতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে।

সিরিয়ায় উপকূলীয় হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দুই আসাদপন্থীর মৃত্যুদণ্ড

সিরিয়ায় উপকূলীয় হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দুই আসাদপন্থীর মৃত্যুদণ্ড

সিরিয়ায় প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর ২০২৫ সালের মার্চে উপকূলীয় অঞ্চলে সংঘটিত সাম্প্রদায়িক সহিংসতা ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আসাদের দুই সমর্থককে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন দেশটির একটি সামরিক আদালত।

ইয়াহিয়া সিনওয়ারের ১০ বছর বয়সী ছেলের গা ছমছম করা চিঠি

ইয়াহিয়া সিনওয়ারের ১০ বছর বয়সী ছেলের গা ছমছম করা চিঠি

হামাসের প্রয়াত নেতা ইয়াহিয়া সিনওয়ারের কাছে ট্যাংক, রাইফেল ও রকেটের ছবি এঁকে চিঠি লিখেছিল তাঁর ১০ বছর বয়সী ছেলে ইব্রাহিম সিনওয়ার। চিঠিতে ইহুদিদের হত্যার তীব্র আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেছিল ইব্রাহিম।

জনপ্রিয় টার্গেট

ভুয়া পূজামণ্ডপের নামে ১,৮০০ কেজি চাল উত্তোলনের চেষ্টা, প্রচার না করার অনুরোধ অভিযুক্ত ব্যক্তির

এবার এডেন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

প্রকাশ: ১২:৫৬:৫৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

ইয়েমেনের তথ্যমন্ত্রী মোয়াম্মার আল-ইরিয়ানি জানান, শুক্রবার এডেন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়ের কাছে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র এসে পড়ে। এ সময় একটি উড়োজাহাজ উড্ডয়নের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। ক্ষেপণাস্ত্রগুলো উড়োজাহাজটি থেকে প্রায় ৫০০ মিটার দূরে পড়ে।

বিমানবন্দরে এ হামলাকে ‘আন্তর্জাতিক আইন ও রীতিনীতির গুরুতর লঙ্ঘন’ বলেও অভিহিত করেন তথ্যমন্ত্রী।

শুক্রবার এক সামরিক সূত্রের বরাত দিয়ে বিবৃতিতে হুতিরা জানায়, তারা এডেন প্রদেশের বদর সামরিক শিবিরে ‘সৌদি বাহিনীর কমান্ড সদর দপ্তর’ এবং একটি অস্ত্রভান্ডার লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।

ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী শুক্রবার এর আগে জানিয়েছিল, রাজধানী সানার উত্তর-পূর্বে অবস্থিত মারিব প্রদেশে তাদের সেনারা অগ্রসর হয়েছেন। সামরিক মুখপাত্র মাজেদ আল-নাজিলি বলেন, বিমান সহায়তায় সরকারি বাহিনী প্রদেশটির পূর্বাঞ্চলে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ভূখণ্ডের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে এবং ‘গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানগুলো’ সুরক্ষিত করেছে।

তিনি আরও দাবি করেন, ২৪ ঘণ্টায় ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী ৪৩০ জনের বেশি হুতি যোদ্ধাকে ‘নিষ্ক্রিয়’ করেছে। এ ছাড়া হুতিদের ১০০ টির বেশি যানবাহন ও সামরিক সরঞ্জাম ধ্বংস বা অকার্যকর করে দেওয়া হয়েছে।

যুদ্ধের গুরুত্বপূর্ণ রণক্ষেত্রে পরিণত হওয়া তাইজ গভর্নরেটেও হুতিদের কয়েকটি ‘বড় ধরনের’ হামলা প্রতিহত করার দাবি করেছে ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী। এতে গোষ্ঠীটির ‘ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি’ হয়েছে বলে দাবি তাদের। তাইজ এলাকায় হুতিদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি বিশেষায়িত ড্রোন পরিচালনাকারী দলকে আটক করার দাবিও করেছে সরকারি বাহিনী।

গত কয়েক সপ্তাহে ইয়েমেনের তৃতীয় বৃহত্তম শহর তাইজকে ঘিরে ফেলেছে হুতিরা। শহরটির দক্ষিণে এডেনের সঙ্গে সংযোগকারী প্রধান সড়ক বন্ধ করে দেওয়ায় ব্যাপকসংখ্যক মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন এবং মানবিক সংকট আরও তীব্র হয়েছে।

এদিকে শুক্রবার সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছে, ইয়েমেনের হুতিদের বিরুদ্ধে লড়াইরত তাদের বাহিনী সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদসহ দেশটির বিভিন্ন এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ভূপাতিত করেছে। সৌদি আরবের অভিযোগ, হুতিদের অস্ত্র ও প্রশিক্ষণ দিয়ে দেশটির বিরুদ্ধে হামলা চালাতে উৎসাহিত করছে ইরান।

তবে শুক্রবার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। মন্ত্রণালয়ের বক্তব্য, হুতিদের কোনো সামরিক অভিযানে তেহরানের ভূমিকা নেই। একই সঙ্গে হুতি ও রিয়াদের মধ্যে মধ্যস্থতা করার প্রস্তাবও পুনর্ব্যক্ত করেছে ইরান।

২০১৪ সালে হুতিরা ইয়েমেনের রাজধানী সানা দখল করে এবং সরকারকে রাজধানী ছেড়ে পালাতে বাধ্য করে। এরপর শুরু হয় গৃহযুদ্ধ। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সহায়তা করতে ২০১৫ সালে সৌদি আরবের নেতৃত্বে একটি আন্তর্জাতিক সামরিক জোট ইয়েমেনে হস্তক্ষেপ করে। এরপর দুই পক্ষের মধ্যে বছরের পর বছর ধরে সংঘর্ষ চলে।

জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় ২০২২ সালে একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়, যার ফলে অধিকাংশ সংঘর্ষ বন্ধ হয়। তবে গত জুলাইয়ে হুতিরা সৌদি আরবের বন্দর এবং বাব আল-মানদেব প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের ওপর নৌ অবরোধ ঘোষণা করার পর থেকে ইয়েমেনে উত্তেজনা বেড়েছে।

সেপ্টেম্বরে হুতিরা ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলের বন্দরনগরী মোখায় আকস্মিক স্থল অভিযান চালায়। এতে সরকারি বাহিনীর অনুগত সেনারা শহরটি থেকে পিছু হটতে বাধ্য হন।

একই মাসে হুতিরা আবারও পশ্চিম উপকূল ও বাব আল-মানদেব প্রণালির আশপাশে অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন এলাকা দখল করে। এসব এলাকার মধ্যে প্রণালিটির কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ মায়ুন দ্বীপও রয়েছে।

মার্কিন অবরোধের মধ্যেও এলপিজি ও জেট জ্বালানি রপ্তানি করছে ইরান

মার্কিন অবরোধের মধ্যেও এলপিজি ও জেট জ্বালানি রপ্তানি করছে ইরান

মার্কিন নৌ অবরোধের মধ্যেও তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) ও জেট জ্বালানির কিছু চালান রপ্তানি করতে সক্ষম হয়েছে ইরান। জাহাজ চলাচল-সংক্রান্ত গোয়েন্দা তথ্য, স্যাটেলাইট চিত্র এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের বরাতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে।

সিরিয়ায় উপকূলীয় হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দুই আসাদপন্থীর মৃত্যুদণ্ড

সিরিয়ায় উপকূলীয় হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দুই আসাদপন্থীর মৃত্যুদণ্ড

সিরিয়ায় প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর ২০২৫ সালের মার্চে উপকূলীয় অঞ্চলে সংঘটিত সাম্প্রদায়িক সহিংসতা ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আসাদের দুই সমর্থককে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন দেশটির একটি সামরিক আদালত।

ইয়াহিয়া সিনওয়ারের ১০ বছর বয়সী ছেলের গা ছমছম করা চিঠি

ইয়াহিয়া সিনওয়ারের ১০ বছর বয়সী ছেলের গা ছমছম করা চিঠি

হামাসের প্রয়াত নেতা ইয়াহিয়া সিনওয়ারের কাছে ট্যাংক, রাইফেল ও রকেটের ছবি এঁকে চিঠি লিখেছিল তাঁর ১০ বছর বয়সী ছেলে ইব্রাহিম সিনওয়ার। চিঠিতে ইহুদিদের হত্যার তীব্র আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেছিল ইব্রাহিম।