বিশ্বব্যাংকের প্রধান জ্ঞান কর্মকর্তা পাসকাল ডনোহো বলেন, বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো উন্নত ভোক্তাপণ্য তৈরিতে মনোযোগ দিলেও উন্নয়নশীল দেশগুলোর প্রয়োজন অনুযায়ী এআই প্রযুক্তি তৈরি করা জরুরি। নির্দিষ্ট কাজের জন্য সীমিত তথ্যভান্ডারে প্রশিক্ষিত বিশেষায়িত মডেলকে ছোট এআই বলা হয়। এটি স্থানীয় ভাষায়, দুর্বল ইন্টারনেট সংযোগেও সাধারণ মোবাইল ফোনে ব্যবহার করা সম্ভব।
উদাহরণ হিসেবে ভারতের কৃষকদের কথা উল্লেখ করেন ডনোহো। বিশ্বব্যাংকের কৃষি উন্নয়ন উদ্যোগ ‘অ্যাগ্রিকানেক্ট’-এর আওতায় কৃষকদের নিজস্ব ভাষায় মাটির গুণাগুণ বিশ্লেষণের তথ্য প্রয়োজন। প্রতিটি ছোট খামারের জন্য কৃষিবিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিশ্চিত করা কঠিন হওয়ায় এআই কৃষকদের প্রয়োজনীয় তথ্য ও নির্দেশনা দিতে পারে। বিশ্বব্যাংক, সরকার ও বেসরকারি খাতের যৌথ উদ্যোগে এ ধরনের প্রযুক্তি তৈরি হতে পারে।
ব্যাংকক-এ অনুষ্ঠিত বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বার্ষিক সভায় এআইয়ের কর্মসংস্থান ও প্রবৃদ্ধিতে প্রভাব নিয়ে আলোচনা হয়। আইএমএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা বলেন, এআইয়ের সুফল পেতে বিদ্যুৎ, ডিজিটাল অবকাঠামো, প্রযুক্তি ব্যবহারের প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি।
বিশ্বব্যাংকের বিশ্ব উন্নয়ন প্রতিবেদনেও অবকাঠামোগত বৈষম্যের চিত্র উঠে এসেছে। এতে বলা হয়, সাব-সাহারান আফ্রিকার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ গ্রামীণ বিদ্যালয়ে বিদ্যুৎ নেই এবং দুই-তৃতীয়াংশের বেশি বিদ্যালয়ে নির্ভরযোগ্য ইন্টারনেট সংযোগের অভাব রয়েছে।
জর্জিয়েভিয়ার সতর্কতা, বিশ্বজুড়ে প্রায় ৪০ শতাংশ চাকরি এআইয়ের প্রভাবে পরিবর্তিত বা বিলুপ্ত হতে পারে। বিশেষ ঝুঁকিতে রয়েছেন কর্মজীবনে প্রবেশ করা তরুণেরা। এদিকে বিশ্বব্যাংক জানিয়েছে, গত এক বছরে গ্যারান্টি ও অন্যান্য আর্থিক ব্যবস্থার মাধ্যমে ১২০ বিলিয়ন ডলারের বেসরকারি পুঁজি সংগ্রহে সহায়তা করেছে সংস্থাটি।

দৈনিক টার্গেট 


























