‘শক্তি বিভব দাও’

  • দৈনিক টার্গেট
  • প্রকাশ: ০৭:৫৪:৩৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬
  • ৮ বার পঠিত হয়েছে

এই যে কন্যারূপী দেবী দুর্গা, তাঁর শক্তি কোথায়? অসুর তথা অপশক্তি দলনে, সহিষ্ণুতায়, সমন্বয়ে। শত শত বছর ধরে এই অঞ্চলে দুর্গার আরাধনা নানা রূপে বিকশিত হয়েছে। কখনো রাজপরিবার ও জমিদারদের পৃষ্ঠপোষকতায়, কখনো পারিবারিক আয়োজনে, আবার কখনো শহরের সর্বজনীন মণ্ডপে। সময়ের সঙ্গে দুর্গাপূজা ধর্মীয় আচার ছাড়িয়ে সামাজিক মিলন, সাংস্কৃতিক বিনিময় ও পারস্পরিক সহাবস্থানের উপলক্ষ হয়ে উঠেছে। স্বাভাবিকভাবে দুর্গাপূজার দুটি রূপ তৈরি হয়েছে, একটি ধর্মীয় রীতিনীতির; অন্যটি উৎসবের। এই উৎসব সর্বজনীন।

কন্যা বিদায়ে বৈরী প্রতিবেশীও বিরহে ব্যাকুল হয়ে ওঠে। তেমনি এই বাংলায় দেবী রূপে দুর্গা সব সময় একটা সমন্বয়ের ভেলা ভাসিয়ে রেখেছেন। রাজ্জাক দেওয়ান যেমন কষ্ট পান কন্যা চলে যাওয়ার দুঃখে, নজরুল তেমনি সেই কন্যারূপী দেবীর কাছেই প্রার্থনা করেন, […] ‘দীনতা ভীরুতা লাজ গ্লানি ঘুচাও,/দলন কর মা লোভ দানবে/রূপ দাও, জয় দাও, যশ দাও, মান দাও,/দেবতা কর ভীরু মানবে।’ এরপরই তাঁর প্রার্থনা, ‘শক্তি বিভব দাও,/দাও মা আলোক দুঃখ-দারিদ্র্য অপগত হোক,/জীবে জীবে হিংসা, এই সংশয়/ (মাগো) দূর হোক পোহাক এ দুর্যোগ-রাত্রি।।’

পৃথিবী যখন বিভেদের আগুনে পুড়ছে, এশিয়া থেকে ইউরোপের দেশে দেশে যখন দুর্দশাগ্রস্ত মানুষের হাহাকারে বাতাস ভারী হয়ে উঠছে, সেই দুর্যোগময় সময়ে কেউ যদি কন্যারূপী দেবীর কাছে প্রার্থনা করে—‘দুর্যোগ রাত্রি’ পোহানোর শক্তি দাও, আমাদের ‘লোভ দানব’কে দলন করো—তাহলে নিশ্চয়ই অন্যায় হবে না? বরং অন্যায়কে ‘অন্যায়’ বলতে আর রুখে দিতে এই শক্তির তো প্রয়োজন আছেই, সংখ্যাগুরু ও সংখ্যালঘুর মধ্যে বিভাজন ও বৈষম্য দূর করতেও প্রয়োজন।

বিলকিসের গল্প

শেরপুরের নালিতাবাড়ীর নন্নী গ্রামের পরচুলা কারখানা নিয়ে আজকের পত্রিকায় যে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে, সেটি নানা দিক দিয়ে আলোচনার যোগ্য। প্রথমত, একজন নারী উদ্যোক্তার পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের ফল এই প্রতিষ্ঠান। দ্বিতীয়ত, এই প্রতিষ্ঠানে কর্মসংস্থান হয়েছে আড়াই শ নারীর।

রেলওয়েতে টিকিট জালিয়াতি

অনলাইনে টিকিট ছাড়ার কয়েক দিন আগেই অ্যাডমিন ড্যাশবোর্ড ব্যবহার করে টিকিট ব্লক করে থাকেন ভেন্ডর প্রতিষ্ঠান ‘সহজ’-এর প্রতিনিধি ও রেলওয়ের বুকিং সহকারীরা। ফলে টিকিট কলোবাজারিতে চলে যায়। এতে সাধারণ জনগণ টিকিট পান না। এ ছাড়া বাংলাদেশ রেলওয়ের টিকিটিং ব্যবস্থার মূল ডেটাবেইস আমাজন ওয়েব

অবমাননা

তোফাজ্জলকে চোর সন্দেহে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পিটিয়ে মেরে ফেলা হয়েছিল। এ কথা নিশ্চয়ই দেশবাসী ভুলে যায়নি। কিছুদিন আগে ভাত চুরির অভিযোগে আজমুল তাঁর খুলনার মেসেদ গণপিটুনির শিকার হয়ে নিহত হলেন। চুরির অভিযোগ এক পাশে রেখে মনে করা যায় দীপু চন্দ্র দাসের কথা।

জনপ্রিয় টার্গেট

‘শক্তি বিভব দাও’

প্রকাশ: ০৭:৫৪:৩৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬

এই যে কন্যারূপী দেবী দুর্গা, তাঁর শক্তি কোথায়? অসুর তথা অপশক্তি দলনে, সহিষ্ণুতায়, সমন্বয়ে। শত শত বছর ধরে এই অঞ্চলে দুর্গার আরাধনা নানা রূপে বিকশিত হয়েছে। কখনো রাজপরিবার ও জমিদারদের পৃষ্ঠপোষকতায়, কখনো পারিবারিক আয়োজনে, আবার কখনো শহরের সর্বজনীন মণ্ডপে। সময়ের সঙ্গে দুর্গাপূজা ধর্মীয় আচার ছাড়িয়ে সামাজিক মিলন, সাংস্কৃতিক বিনিময় ও পারস্পরিক সহাবস্থানের উপলক্ষ হয়ে উঠেছে। স্বাভাবিকভাবে দুর্গাপূজার দুটি রূপ তৈরি হয়েছে, একটি ধর্মীয় রীতিনীতির; অন্যটি উৎসবের। এই উৎসব সর্বজনীন।

কন্যা বিদায়ে বৈরী প্রতিবেশীও বিরহে ব্যাকুল হয়ে ওঠে। তেমনি এই বাংলায় দেবী রূপে দুর্গা সব সময় একটা সমন্বয়ের ভেলা ভাসিয়ে রেখেছেন। রাজ্জাক দেওয়ান যেমন কষ্ট পান কন্যা চলে যাওয়ার দুঃখে, নজরুল তেমনি সেই কন্যারূপী দেবীর কাছেই প্রার্থনা করেন, […] ‘দীনতা ভীরুতা লাজ গ্লানি ঘুচাও,/দলন কর মা লোভ দানবে/রূপ দাও, জয় দাও, যশ দাও, মান দাও,/দেবতা কর ভীরু মানবে।’ এরপরই তাঁর প্রার্থনা, ‘শক্তি বিভব দাও,/দাও মা আলোক দুঃখ-দারিদ্র্য অপগত হোক,/জীবে জীবে হিংসা, এই সংশয়/ (মাগো) দূর হোক পোহাক এ দুর্যোগ-রাত্রি।।’

পৃথিবী যখন বিভেদের আগুনে পুড়ছে, এশিয়া থেকে ইউরোপের দেশে দেশে যখন দুর্দশাগ্রস্ত মানুষের হাহাকারে বাতাস ভারী হয়ে উঠছে, সেই দুর্যোগময় সময়ে কেউ যদি কন্যারূপী দেবীর কাছে প্রার্থনা করে—‘দুর্যোগ রাত্রি’ পোহানোর শক্তি দাও, আমাদের ‘লোভ দানব’কে দলন করো—তাহলে নিশ্চয়ই অন্যায় হবে না? বরং অন্যায়কে ‘অন্যায়’ বলতে আর রুখে দিতে এই শক্তির তো প্রয়োজন আছেই, সংখ্যাগুরু ও সংখ্যালঘুর মধ্যে বিভাজন ও বৈষম্য দূর করতেও প্রয়োজন।

বিলকিসের গল্প

শেরপুরের নালিতাবাড়ীর নন্নী গ্রামের পরচুলা কারখানা নিয়ে আজকের পত্রিকায় যে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে, সেটি নানা দিক দিয়ে আলোচনার যোগ্য। প্রথমত, একজন নারী উদ্যোক্তার পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের ফল এই প্রতিষ্ঠান। দ্বিতীয়ত, এই প্রতিষ্ঠানে কর্মসংস্থান হয়েছে আড়াই শ নারীর।

রেলওয়েতে টিকিট জালিয়াতি

অনলাইনে টিকিট ছাড়ার কয়েক দিন আগেই অ্যাডমিন ড্যাশবোর্ড ব্যবহার করে টিকিট ব্লক করে থাকেন ভেন্ডর প্রতিষ্ঠান ‘সহজ’-এর প্রতিনিধি ও রেলওয়ের বুকিং সহকারীরা। ফলে টিকিট কলোবাজারিতে চলে যায়। এতে সাধারণ জনগণ টিকিট পান না। এ ছাড়া বাংলাদেশ রেলওয়ের টিকিটিং ব্যবস্থার মূল ডেটাবেইস আমাজন ওয়েব

অবমাননা

তোফাজ্জলকে চোর সন্দেহে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পিটিয়ে মেরে ফেলা হয়েছিল। এ কথা নিশ্চয়ই দেশবাসী ভুলে যায়নি। কিছুদিন আগে ভাত চুরির অভিযোগে আজমুল তাঁর খুলনার মেসেদ গণপিটুনির শিকার হয়ে নিহত হলেন। চুরির অভিযোগ এক পাশে রেখে মনে করা যায় দীপু চন্দ্র দাসের কথা।