পানির গ্লাসে নীরব ঘাতক ফরএভার কেমিক্যালস

  • দৈনিক টার্গেট
  • প্রকাশ: ০৯:০৬:৪৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬
  • ১৩ বার পঠিত হয়েছে

মানুষের তৈরি এই ক্ষতিকারক রাসায়নিক উপাদানগুলো সাধারণত খাদ্য মোড়কীকরণ, নন-স্টিক বাসন এবং দৈনন্দিন জীবনের নানা সামগ্রীতে ব্যবহৃত হয়। এগুলোর হাজারো ধরন থাকলেও পরিবেশে সবচেয়ে বেশি মেলে পিএফওএ এবং পিএফওএস। এদের ‘ফরএভার কেমিক্যাল’ বলা হয়, কারণ এগুলো পরিবেশ বা মানুষের শরীরে অত্যন্ত ধীরে ধীরে ভাঙে। সহজে ধ্বংস না হওয়ার কারণে বছরজুড়ে এগুলো আমাদের পরিবেশ ও শরীরে জমা হতে থাকে।

বিভিন্ন শিল্পকারখানার অনিয়ন্ত্রিত বর্জ্য ও ক্ষতিকর তরল সরাসরি জলাশয়ে ফেলার কারণে এই বিষাক্ত উপাদান পানি, মাটি ও বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে। বর্জ্য শোধনাগার, ল্যান্ডফিল বা ময়লা ফেলার স্থান, পেট্রোলিয়াম রিফাইনারি, কার ওয়াশ, বিমানবন্দর, সাময়িক ঘাঁটি, টেক্সটাইল, চামড়া, প্লাস্টিক ও রং তৈরির কারখানা থেকে এটি বেশি নিঃসৃত হয়। এ ছাড়া দূষিত মাটি বা ল্যান্ডফিল থেকে বৃষ্টির পানির সঙ্গে চুইয়ে তা সুপেয় পানির উৎসে মেশে।

হ্যাঁ, মারাত্মক এই সমস্যা বাংলাদেশেও ব্যাপকভাবে বিদ্যমান। বাংলাদেশ একটি প্রধান পোশাক ও টেক্সটাইল রপ্তানিকারক দেশ। কাপড়ে পানি বা দাগ প্রতিরোধক প্রলেপ দেওয়া, ডাইং, চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণ ও প্লাস্টিক কারখানায় প্রচুর পরিমাণে এই কেমিক্যাল ব্যবহৃত হয়। ঢাকা ও আশপাশের টেক্সটাইলশিল্প এলাকার ৮৭ শতাংশ ভূ-উপরিস্থ (নদী ও জলাশয়) এবং ৭৫ শতাংশ ট্যাপের পানির নমুনায় পিএফএএস পাওয়া গেছে। তুরাগ ও কর্ণফুলীর মতো নদীতে এর মাত্রা অনেক বেশি। ঢাকার বাসাবাড়িতে সরবরাহকৃত ট্যাপের পানি, বাজারে বিক্রি হওয়া ব্র্যান্ডের পোশাক এবং চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের উপকূলীয় এলাকার মাছেও এর অস্তিত্ব মিলেছে। উন্নত দেশে কড়া নীতিমালা থাকলেও বাংলাদেশে এটি নিয়ন্ত্রণ বা নিষিদ্ধ করার কোনো পূর্ণাঙ্গ আইন এখনো হয়নি। তা ছাড়া আমাদের দেশে প্রচলিত সাধারণ ফিল্টার বা পানি ফোটানোর মাধ্যমে এই উপাদান দূর করা যায় না। আমাদের দেশে বহুল ব্যবহৃত সাধারণ ফিল্টার (যেমন ফুটানো বা সাধারণ ক্যান্ডেল/মেমব্রেন ফিল্টার) পানি থেকে পিএফএএস দূর করতে পারে না। এর জন্য হাই-গ্রেড রিভার্স অসমোসিস বা অ্যাক্টিভেটেড কার্বন ফিল্টার প্রয়োজন।

বেশির ভাগ মানুষই জীবনের কোনো না কোনো পর্যায়ে এই রাসায়নিকের সংস্পর্শে আসে। অন্যান্য রোগের পাশাপাশি এটি টেস্টিকুলার (অণ্ডকোষ) এবং কিডনি ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। এটি নারী প্রজনন অঙ্গ, স্তন ও থাইরয়েড টিস্যুকে প্রভাবিত করে এবং ডিম্বাশয়ের সমস্যা যেমন পিএমওএসের ঝুঁকি বাড়ায়।

অদৃশ্য এই ঝুঁকি থেকে বাঁচতে এখনই প্রয়োজন সঠিক সচেতনতা ও কার্যকর পানি শোধন পদ্ধতির ব্যবহার। নিজের ও পরিবারের সুরক্ষায় সচেতন হওয়া অত্যন্ত জরুরি:

সূত্র: হেলথ লাইন, দ্য গার্ডিয়ান

হামের উপসর্গে আরও ৭ মৃত্যু, মোট প্রাণহানি বেড়ে ১২১৪

হামের উপসর্গে আরও ৭ মৃত্যু, মোট প্রাণহানি বেড়ে ১২১৪

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর হামের উপসর্গ নিয়ে সবচেয়ে বেশি ৪৯৮ জনের মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে। এরপর সিলেট বিভাগে ১৯৭ জন, চট্টগ্রামে ১০৩, রাজশাহীতে ৯৩, ময়মনসিংহে ৮৬, বরিশালে ৬৫, খুলনায় ৫১ এবং রংপুর বিভাগে ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।

ডেঙ্গুতে ৩ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ১২৯৯

ডেঙ্গুতে ৩ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ১২৯৯

দেশে ডেঙ্গুতে মৃত্যু ও আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় এডিস মশাবাহিত রোগটিতে আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ হাজার ২৯৯ জন। এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৭১ জনে।

ডেঙ্গুতে ৪ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১৫১২

ডেঙ্গুতে ৪ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১৫১২

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও চারজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ হাজার ৫১২ জন। এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩৬৮ ও হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ১৮ হাজার ৫০২ হয়েছে। অক্টোবরে এখন পর্যন্ত ১২৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।

জনপ্রিয় টার্গেট

পানির গ্লাসে নীরব ঘাতক ফরএভার কেমিক্যালস

প্রকাশ: ০৯:০৬:৪৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬

মানুষের তৈরি এই ক্ষতিকারক রাসায়নিক উপাদানগুলো সাধারণত খাদ্য মোড়কীকরণ, নন-স্টিক বাসন এবং দৈনন্দিন জীবনের নানা সামগ্রীতে ব্যবহৃত হয়। এগুলোর হাজারো ধরন থাকলেও পরিবেশে সবচেয়ে বেশি মেলে পিএফওএ এবং পিএফওএস। এদের ‘ফরএভার কেমিক্যাল’ বলা হয়, কারণ এগুলো পরিবেশ বা মানুষের শরীরে অত্যন্ত ধীরে ধীরে ভাঙে। সহজে ধ্বংস না হওয়ার কারণে বছরজুড়ে এগুলো আমাদের পরিবেশ ও শরীরে জমা হতে থাকে।

বিভিন্ন শিল্পকারখানার অনিয়ন্ত্রিত বর্জ্য ও ক্ষতিকর তরল সরাসরি জলাশয়ে ফেলার কারণে এই বিষাক্ত উপাদান পানি, মাটি ও বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে। বর্জ্য শোধনাগার, ল্যান্ডফিল বা ময়লা ফেলার স্থান, পেট্রোলিয়াম রিফাইনারি, কার ওয়াশ, বিমানবন্দর, সাময়িক ঘাঁটি, টেক্সটাইল, চামড়া, প্লাস্টিক ও রং তৈরির কারখানা থেকে এটি বেশি নিঃসৃত হয়। এ ছাড়া দূষিত মাটি বা ল্যান্ডফিল থেকে বৃষ্টির পানির সঙ্গে চুইয়ে তা সুপেয় পানির উৎসে মেশে।

হ্যাঁ, মারাত্মক এই সমস্যা বাংলাদেশেও ব্যাপকভাবে বিদ্যমান। বাংলাদেশ একটি প্রধান পোশাক ও টেক্সটাইল রপ্তানিকারক দেশ। কাপড়ে পানি বা দাগ প্রতিরোধক প্রলেপ দেওয়া, ডাইং, চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণ ও প্লাস্টিক কারখানায় প্রচুর পরিমাণে এই কেমিক্যাল ব্যবহৃত হয়। ঢাকা ও আশপাশের টেক্সটাইলশিল্প এলাকার ৮৭ শতাংশ ভূ-উপরিস্থ (নদী ও জলাশয়) এবং ৭৫ শতাংশ ট্যাপের পানির নমুনায় পিএফএএস পাওয়া গেছে। তুরাগ ও কর্ণফুলীর মতো নদীতে এর মাত্রা অনেক বেশি। ঢাকার বাসাবাড়িতে সরবরাহকৃত ট্যাপের পানি, বাজারে বিক্রি হওয়া ব্র্যান্ডের পোশাক এবং চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের উপকূলীয় এলাকার মাছেও এর অস্তিত্ব মিলেছে। উন্নত দেশে কড়া নীতিমালা থাকলেও বাংলাদেশে এটি নিয়ন্ত্রণ বা নিষিদ্ধ করার কোনো পূর্ণাঙ্গ আইন এখনো হয়নি। তা ছাড়া আমাদের দেশে প্রচলিত সাধারণ ফিল্টার বা পানি ফোটানোর মাধ্যমে এই উপাদান দূর করা যায় না। আমাদের দেশে বহুল ব্যবহৃত সাধারণ ফিল্টার (যেমন ফুটানো বা সাধারণ ক্যান্ডেল/মেমব্রেন ফিল্টার) পানি থেকে পিএফএএস দূর করতে পারে না। এর জন্য হাই-গ্রেড রিভার্স অসমোসিস বা অ্যাক্টিভেটেড কার্বন ফিল্টার প্রয়োজন।

বেশির ভাগ মানুষই জীবনের কোনো না কোনো পর্যায়ে এই রাসায়নিকের সংস্পর্শে আসে। অন্যান্য রোগের পাশাপাশি এটি টেস্টিকুলার (অণ্ডকোষ) এবং কিডনি ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। এটি নারী প্রজনন অঙ্গ, স্তন ও থাইরয়েড টিস্যুকে প্রভাবিত করে এবং ডিম্বাশয়ের সমস্যা যেমন পিএমওএসের ঝুঁকি বাড়ায়।

অদৃশ্য এই ঝুঁকি থেকে বাঁচতে এখনই প্রয়োজন সঠিক সচেতনতা ও কার্যকর পানি শোধন পদ্ধতির ব্যবহার। নিজের ও পরিবারের সুরক্ষায় সচেতন হওয়া অত্যন্ত জরুরি:

সূত্র: হেলথ লাইন, দ্য গার্ডিয়ান

হামের উপসর্গে আরও ৭ মৃত্যু, মোট প্রাণহানি বেড়ে ১২১৪

হামের উপসর্গে আরও ৭ মৃত্যু, মোট প্রাণহানি বেড়ে ১২১৪

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর হামের উপসর্গ নিয়ে সবচেয়ে বেশি ৪৯৮ জনের মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে। এরপর সিলেট বিভাগে ১৯৭ জন, চট্টগ্রামে ১০৩, রাজশাহীতে ৯৩, ময়মনসিংহে ৮৬, বরিশালে ৬৫, খুলনায় ৫১ এবং রংপুর বিভাগে ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।

ডেঙ্গুতে ৩ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ১২৯৯

ডেঙ্গুতে ৩ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ১২৯৯

দেশে ডেঙ্গুতে মৃত্যু ও আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় এডিস মশাবাহিত রোগটিতে আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ হাজার ২৯৯ জন। এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৭১ জনে।

ডেঙ্গুতে ৪ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১৫১২

ডেঙ্গুতে ৪ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১৫১২

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও চারজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ হাজার ৫১২ জন। এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩৬৮ ও হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ১৮ হাজার ৫০২ হয়েছে। অক্টোবরে এখন পর্যন্ত ১২৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।