দক্ষিণ চীন সমুদ্রে আধিপত্যের লড়াই

  • দৈনিক টার্গেট
  • প্রকাশ: ০৯:১৯:৩৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬
  • ৬ বার পঠিত হয়েছে

বিশ্বজুড়ে সমুদ্রপথে যে পরিমাণ পণ্য পরিবহন করা হয়, তার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এই দক্ষিণ চীন সাগর দিয়ে প্রবাহিত হয়। বেইজিং এই অঞ্চলে তার নিয়ন্ত্রণ সুসংহত করতে এবং যুক্তরাষ্ট্র বা অন্যান্য প্রতিবেশী দেশের প্রভাব প্রতিহত করতে সুনির্দিষ্ট কিছু নীতি ও কৌশল ব্যবহার করছে।

এই ক্ষমতার লড়াই শুধু আঞ্চলিক কোনো বিষয় নয়; বরং এটি পুরো বিশ্বের জন্য এক বিশাল হুমকি। এখানে কোনো কারণে সংঘাত বাধলে, তার প্রভাব পড়বে বিশ্বজুড়ে। পণ্য পরিবহন বন্ধ হয়ে যাবে, জিনিসের দাম বাড়বে এবং ক্ষতি হবে সব দেশের অর্থনীতির। বিশ্বের জ্বালানি তেল ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের একটি বড় অংশ এই পথ দিয়ে চলাচল করে। এই পথ ব্যাহত হলে শিপিং খরচ বহুগুণ বেড়ে যাবে। ফলে আমদানি করা সব পণ্যের দাম হু হু করে বাড়বে, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় অনেক বাড়িয়ে দেবে।

সামরিক উত্তেজনা ও কৃত্রিম দ্বীপ তৈরির কারণে এখানকার সামুদ্রিক পরিবেশ ও প্রবালের প্রাচীর ধ্বংস হচ্ছে। অঞ্চলটির কোটি কোটি মানুষের প্রোটিনের প্রধান উৎস এই সাগরের মাছ। সংঘাত বাড়লে সামুদ্রিক মাছ ধরা বন্ধ হয়ে তীব্র আমিষের সংকট দেখা দিতে পারে। এই সংকট কেন্দ্র করে এশিয়ার দেশগুলো এখন নিজেদের সামরিক বাজেট অস্বাভাবিকভাবে বাড়াচ্ছে। সবাই নতুন নতুন যুদ্ধজাহাজ ও ক্ষেপণাস্ত্র কিনছে। ফলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য বা দারিদ্র্য বিমোচনের টাকা চলে যাচ্ছে সামরিক খাতে, যা দীর্ঘ মেয়াদে মানব উন্নয়নের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।

আন্তর্জাতিক আদালত যখন কোনো রায় দেন এবং বড় কোনো শক্তি যদি তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে, তখন আন্তর্জাতিক আইনের মর্যাদা নষ্ট হয়। এতে ভবিষ্যতে যেকোনো শক্তিশালী দেশ জোরজুলুম করার সাহস পাবে এবং জোর যার মুল্লুক তার পরিস্থিতি তৈরি হবে। মৎস্য সম্পদ সংরক্ষণ, সামুদ্রিক পরিবেশ রক্ষা এবং তেল-গ্যাস উত্তোলনে পারস্পরিক অংশীদারত্বের ভিত্তিতে কাজ করলে সংঘাতের আশঙ্কা অনেকটা কমে আসবে। এই সমস্যা সমাধানে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মতো পরাশক্তিগুলোর দ্বিপক্ষীয় অহমিকার লড়াই বন্ধ করতে আসিয়ান এবং জাতিসংঘের মতো আন্তর্জাতিক সংস্থাকে নিরপেক্ষ মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করতে হবে।

সম্প্রীতি ও আত্মপরিচয়ের মেলবন্ধন

সম্প্রীতি ও আত্মপরিচয়ের মেলবন্ধন

ছোটবেলা থেকে শারদীয় দুর্গাপূজার সময় সাঁওতালদের ঐতিহ্যবাহী ‘দাসাই নৃত্য’ দেখে আসছি। বাংলাদেশে যখন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা দুর্গাপূজার আনন্দ-উৎসবে মেতে ওঠেন, ঠিক সেই সময় উত্তরবঙ্গের সাঁওতালপল্লিতে একেবারে ভিন্ন আঙ্গিকের আনন্দ-উৎসব অনুষ্ঠিত হয়, যা দেশবাসী সেভাবে অবগত নয়।

অর্থনীতির অসুখ সারানো জরুরি

অর্থনীতির অসুখ সারানো জরুরি

রায়হান ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে গেলেন। ব্যবসা বড় করার পরিকল্পনা আছে, ক্রেতাও আছে। কিন্তু ঋণের সুদ বেশি, ঋণপত্র খুলতে অনিশ্চয়তা, গ্যাসের চাপ কম, বিদ্যুতের সরবরাহ ঠিক নেই। কয়েক মাস অপেক্ষার পর তিনি নতুন কারখানা না করার সিদ্ধান্ত নিলেন। এই একটি সিদ্ধান্ত হয়তো জাতীয় পরিসংখ্যানে বড় কোনো ঘটনা হিসেবে ধরা…

প্রাগৈতিহাসিক আয়নায় আধুনিকতা

প্রাগৈতিহাসিক আয়নায় আধুনিকতা

বরিশাল নগরীর ‘বনলতা বুক ক্যাফে’তে ৪ সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিত হয় বিশেষ বিজ্ঞান বক্তৃতা—‘নিয়ান্ডারথাল থেকে হোমো স্যাপিয়েন্স: টিকে থাকা ও বিদায়ের গল্প’। ‘কসমিক কালচার’, ‘ডিসকাশন প্রজেক্ট’, ‘চন্দ্রদ্বীপ ডট কম’ ও ‘বনলতা বুক ক্যাফে’ যৌথভাবে এ আয়োজন করে। মূল বক্তব্যের পাশাপাশি শিশুদের জন্য…

জনপ্রিয় টার্গেট

দক্ষিণ চীন সমুদ্রে আধিপত্যের লড়াই

প্রকাশ: ০৯:১৯:৩৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬

বিশ্বজুড়ে সমুদ্রপথে যে পরিমাণ পণ্য পরিবহন করা হয়, তার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এই দক্ষিণ চীন সাগর দিয়ে প্রবাহিত হয়। বেইজিং এই অঞ্চলে তার নিয়ন্ত্রণ সুসংহত করতে এবং যুক্তরাষ্ট্র বা অন্যান্য প্রতিবেশী দেশের প্রভাব প্রতিহত করতে সুনির্দিষ্ট কিছু নীতি ও কৌশল ব্যবহার করছে।

এই ক্ষমতার লড়াই শুধু আঞ্চলিক কোনো বিষয় নয়; বরং এটি পুরো বিশ্বের জন্য এক বিশাল হুমকি। এখানে কোনো কারণে সংঘাত বাধলে, তার প্রভাব পড়বে বিশ্বজুড়ে। পণ্য পরিবহন বন্ধ হয়ে যাবে, জিনিসের দাম বাড়বে এবং ক্ষতি হবে সব দেশের অর্থনীতির। বিশ্বের জ্বালানি তেল ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের একটি বড় অংশ এই পথ দিয়ে চলাচল করে। এই পথ ব্যাহত হলে শিপিং খরচ বহুগুণ বেড়ে যাবে। ফলে আমদানি করা সব পণ্যের দাম হু হু করে বাড়বে, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় অনেক বাড়িয়ে দেবে।

সামরিক উত্তেজনা ও কৃত্রিম দ্বীপ তৈরির কারণে এখানকার সামুদ্রিক পরিবেশ ও প্রবালের প্রাচীর ধ্বংস হচ্ছে। অঞ্চলটির কোটি কোটি মানুষের প্রোটিনের প্রধান উৎস এই সাগরের মাছ। সংঘাত বাড়লে সামুদ্রিক মাছ ধরা বন্ধ হয়ে তীব্র আমিষের সংকট দেখা দিতে পারে। এই সংকট কেন্দ্র করে এশিয়ার দেশগুলো এখন নিজেদের সামরিক বাজেট অস্বাভাবিকভাবে বাড়াচ্ছে। সবাই নতুন নতুন যুদ্ধজাহাজ ও ক্ষেপণাস্ত্র কিনছে। ফলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য বা দারিদ্র্য বিমোচনের টাকা চলে যাচ্ছে সামরিক খাতে, যা দীর্ঘ মেয়াদে মানব উন্নয়নের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।

আন্তর্জাতিক আদালত যখন কোনো রায় দেন এবং বড় কোনো শক্তি যদি তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে, তখন আন্তর্জাতিক আইনের মর্যাদা নষ্ট হয়। এতে ভবিষ্যতে যেকোনো শক্তিশালী দেশ জোরজুলুম করার সাহস পাবে এবং জোর যার মুল্লুক তার পরিস্থিতি তৈরি হবে। মৎস্য সম্পদ সংরক্ষণ, সামুদ্রিক পরিবেশ রক্ষা এবং তেল-গ্যাস উত্তোলনে পারস্পরিক অংশীদারত্বের ভিত্তিতে কাজ করলে সংঘাতের আশঙ্কা অনেকটা কমে আসবে। এই সমস্যা সমাধানে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মতো পরাশক্তিগুলোর দ্বিপক্ষীয় অহমিকার লড়াই বন্ধ করতে আসিয়ান এবং জাতিসংঘের মতো আন্তর্জাতিক সংস্থাকে নিরপেক্ষ মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করতে হবে।

সম্প্রীতি ও আত্মপরিচয়ের মেলবন্ধন

সম্প্রীতি ও আত্মপরিচয়ের মেলবন্ধন

ছোটবেলা থেকে শারদীয় দুর্গাপূজার সময় সাঁওতালদের ঐতিহ্যবাহী ‘দাসাই নৃত্য’ দেখে আসছি। বাংলাদেশে যখন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা দুর্গাপূজার আনন্দ-উৎসবে মেতে ওঠেন, ঠিক সেই সময় উত্তরবঙ্গের সাঁওতালপল্লিতে একেবারে ভিন্ন আঙ্গিকের আনন্দ-উৎসব অনুষ্ঠিত হয়, যা দেশবাসী সেভাবে অবগত নয়।

অর্থনীতির অসুখ সারানো জরুরি

অর্থনীতির অসুখ সারানো জরুরি

রায়হান ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে গেলেন। ব্যবসা বড় করার পরিকল্পনা আছে, ক্রেতাও আছে। কিন্তু ঋণের সুদ বেশি, ঋণপত্র খুলতে অনিশ্চয়তা, গ্যাসের চাপ কম, বিদ্যুতের সরবরাহ ঠিক নেই। কয়েক মাস অপেক্ষার পর তিনি নতুন কারখানা না করার সিদ্ধান্ত নিলেন। এই একটি সিদ্ধান্ত হয়তো জাতীয় পরিসংখ্যানে বড় কোনো ঘটনা হিসেবে ধরা…

প্রাগৈতিহাসিক আয়নায় আধুনিকতা

প্রাগৈতিহাসিক আয়নায় আধুনিকতা

বরিশাল নগরীর ‘বনলতা বুক ক্যাফে’তে ৪ সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিত হয় বিশেষ বিজ্ঞান বক্তৃতা—‘নিয়ান্ডারথাল থেকে হোমো স্যাপিয়েন্স: টিকে থাকা ও বিদায়ের গল্প’। ‘কসমিক কালচার’, ‘ডিসকাশন প্রজেক্ট’, ‘চন্দ্রদ্বীপ ডট কম’ ও ‘বনলতা বুক ক্যাফে’ যৌথভাবে এ আয়োজন করে। মূল বক্তব্যের পাশাপাশি শিশুদের জন্য…