ছড়িয়ে পড়া পোস্টটির কমেন্টে নেটিজেনদের মিশ্র প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়। অনেকে দাবিটিকে সত্য ভেবে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন, আবার কেউ কেউ এটি ভারতের ঘটনা কিংবা এআই দিয়ে তৈরি ছবি বলেও কমেন্ট করেছেন।
প্রথমে প্রচারিত দুটি কোলাজ ছবি পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, বাম পাশের ছবিতে শাড়ি পরিহিত এক নারী ফুটপাত ধরে হেঁটে যাচ্ছেন। ডান পাশের ছবিতে এক নারীকে ফুটপাতের ওপর মাথা রেখে উপুর হয়ে পড়ে থাকতে দেখা যায়, যাঁর পাশে একটি প্লাস্টিকের পানির বোতল ও শপিং ব্যাগ পড়ে আছে। এ সময় এক যুবক ও আরেক নারীকে হাঁটুতে হাত দিয়ে সামনে ঝুঁকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।
তবে ছবিটি পর্যবেক্ষণে আলোচিত ভুক্তভোগী ওই নারীর দুই পায়ের মাঝে আরেকটি মাথাসদৃশ বস্তু ও ডান হাত অস্বাভাবিক লম্বা দেখা যায়।
অনুসন্ধানে প্রচারিত দাবির বিষয়ে গণমাধ্যমে এমন কোনো তথ্যের সত্যতা পাওয়া যায়নি। এ ছাড়া, গুগল স্ট্রিট ভিউ থেকে পাওয়া নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের ছবির সঙ্গেও প্রচারিত ছবির মিল পাওয়া যায়নি।
ছবিটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি কি না, তা যাচাই করতে একাধিক এআই কনটেন্ট শনাক্তকারী টুলের সহায়তা নেওয়া হয়। এআই কনটেন্ট শনাক্তকারী টুল ‘হাইভ মডারেশন’-এর বিশ্লেষণে দেখা যায়, ছবিটি এআই দিয়ে তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় ১০০ শতাংশ।
বিষয়টি নিয়ে আরও অনুসন্ধানে নেপালের মূলধারার সংবাদমাধ্যম ‘অনলাইনখবর’ ও ইংরেজি দৈনিক ‘দ্য কাঠমান্ডু পোস্ট’ -এর প্রতিবেদন পাওয়া যায়। প্রকাশিত ওই প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, নেপালের ‘গজেন্দ্র নারায়ণ সিং সগরমাথা হাসপাতাল’-এ এরকম একটি ঘটনা ঘটেছে।
এ ছাড়া, অনলাইনখবরের প্রতিবেদনে ব্যবহৃত ছবির সঙ্গেও আলোচিত ছবিটির দৃশ্যগত মিল পাওয়া যায়।
নোয়াখালী সরকারি হাসপাতালে টাকা না পেয়ে প্রসূতিকে তাড়িয়ে দেওয়া এবং সড়কে সন্তান প্রসবের দাবিটি সঠিক নয়। মূলত নেপালের একটি হাসপাতালে ঘটে যাওয়া ঘটনার প্রেক্ষাপট ব্যবহার করে এআই দিয়ে তৈরি ছবি নোয়াখালীর ঘটনা দাবিতে ছড়ানো হচ্ছে।