সাংবাদিক উৎস হত্যা: মূল হোতা খালাসের রায়ে অসন্তোষ, দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরাও পলাতক

  • দৈনিক টার্গেট
  • প্রকাশ: ১০:৫৩:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ২৮ বার পঠিত হয়েছে

আজ বুধবার দুপুরে রংপুর মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক মসিউর রহমান খান এ রায় ঘোষণা করেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও রংপুর মহানগর দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট আব্দুল হাদী বেলাল এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হলেন রুবেল ইসলাম ওরফে হেকরম এবং যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত দুই আসামি হলেন লেলিন ইসলাম ওরফে এলিন ও শুভ কুমার। তিন আসামিই পলাতক রয়েছেন।

রায়ে খালাস পাওয়া আসামিরা হলেন–মামলার প্রধান আসামি জহিরন আক্তার জুই, রুপম ইসলাম, রিপন মিয়া, রোকসানা বেগম ও রুবেল মিয়া।

তবে আদালতের রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে উচ্চ আদালতে আপিল করার কথা জানিয়েছেন মামলার বাদী ও নিহত সাংবাদিক উৎস রহমানের মা নুরজাহান বেগম। তিনি বলেন, ‘এ রায়ে ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছি আমরা।’

বাদীপক্ষের আইনজীবী পলাশ কান্তি নাগ বলেন, ‘এই মামলায় শুরু থেকেই নিযুক্ত ছিলাম, এই আদেশে সংক্ষুব্ধ হয়েছি। মামলার মূল অভিযুক্ত জহিরন আক্তার জুই ওরফে গেদী এ হত্যার মূল হোতা। অথচ আদালত তাঁকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন। এ রায়ে আমরা আইনজীবীসহ নিহতের পরিবার অসন্তুষ্ট।’

তিনি আরও বলেন, ‘হত্যার পর মূল হোতা পার পেয়ে গেলে সমাজে অপরাধ আরও বাড়বে।’

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আব্দুল হাদী বেলাল জানান, মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, জহিরন আক্তার জুঁই ওরফে গেদী ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা দিয়ে উৎস রহমানকে হত্যার পরিকল্পনা করিয়েছিলেন। অথচ আদালতে তিনি খালাস পেয়েছেন। এ কারণে নিহতের পরিবার সংক্ষুব্ধ এবং তারা উচ্চ আদালতে আপিল করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

রংপুর সিটি প্রেসক্লাবের সভাপতি স্বপন চৌধুরী বলেন, ‘এই রায়ে সাংবাদিক সমাজ সন্তুষ্ট নয়। দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা পলাতক, আবার মূল হোতাও খালাস পেয়েছেন। সব মিলিয়ে এটি বিস্ময়কর একটি রায়।’

রংপুর সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি সালেকুজ্জামান ছালেক বলেন, ‘সাক্ষ্য-প্রমাণের ঘাটতির কারণে মূল অভিযুক্ত খালাস পেয়েছেন। এতে আমরা মর্মাহত। বিষয়টি নিয়ে সাংবাদিক সংগঠনের নেতারা বসে পরবর্তী করণীয় ঠিক করবেন।’

মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২০১৫ সালের ২৩ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় রংপুরের দৈনিক যুগের আলোর কার্যালয়ে যান সাংবাদিক উৎস রহমান। এরপর রাতে তিনি আর বাড়ি ফেরেননি। পরদিন সকালে নগরীর ধর্মদাস এলাকায় একটি গাছের সঙ্গে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় উৎস রহমানের মা নুরজাহান বেগম বাদী হয়ে থানায় হত্যা মামলা করেন।

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় বিরিয়ানি খেয়ে তিন পরিবারের ৯ জন অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, আলমডাঙ্গা পৌর শহরের হাইরোডে হাজী বিরিয়ানি হাউজ থেকে বিরিয়ানি কিনে খাওয়ার পর তাঁদের বমি, তীব্র পেটব্যথা ও ডায়রিয়া শুরু হয়।

রাজশাহীর পুঠিয়ায় দিনদুপুরে একই দিনে তিন বাড়িতে চুরির ঘটনা ঘটেছে। উপজেলার গাং ধোপাপাড়ার হিন্দুপাড়া ও কারিগরপাড়া এলাকায় গতকাল মঙ্গলবার প্রবাসীসহ দুই শিক্ষকের বাড়িতে এ চুরির ঘটনা ঘটে।

কুমিল্লার দেবিদ্বারে অবৈধ ও মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রির অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালত চালিয়ে আট ফার্মেসিকে অর্থদণ্ড করা হয়েছে। একই অভিযানে নির্ধারিত স্থানে বাস পার্কিং না করে যানজট সৃষ্টির দায়ে দুই বাসকেও অর্থদণ্ড করা হয়।

জনপ্রিয় টার্গেট

বরিশালে মাদ্রাসার সভাপতি নিয়ে চরমোনাই ও বিএনপিতে উত্তেজনা

সাংবাদিক উৎস হত্যা: মূল হোতা খালাসের রায়ে অসন্তোষ, দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরাও পলাতক

প্রকাশ: ১০:৫৩:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আজ বুধবার দুপুরে রংপুর মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক মসিউর রহমান খান এ রায় ঘোষণা করেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও রংপুর মহানগর দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট আব্দুল হাদী বেলাল এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হলেন রুবেল ইসলাম ওরফে হেকরম এবং যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত দুই আসামি হলেন লেলিন ইসলাম ওরফে এলিন ও শুভ কুমার। তিন আসামিই পলাতক রয়েছেন।

রায়ে খালাস পাওয়া আসামিরা হলেন–মামলার প্রধান আসামি জহিরন আক্তার জুই, রুপম ইসলাম, রিপন মিয়া, রোকসানা বেগম ও রুবেল মিয়া।

তবে আদালতের রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে উচ্চ আদালতে আপিল করার কথা জানিয়েছেন মামলার বাদী ও নিহত সাংবাদিক উৎস রহমানের মা নুরজাহান বেগম। তিনি বলেন, ‘এ রায়ে ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছি আমরা।’

বাদীপক্ষের আইনজীবী পলাশ কান্তি নাগ বলেন, ‘এই মামলায় শুরু থেকেই নিযুক্ত ছিলাম, এই আদেশে সংক্ষুব্ধ হয়েছি। মামলার মূল অভিযুক্ত জহিরন আক্তার জুই ওরফে গেদী এ হত্যার মূল হোতা। অথচ আদালত তাঁকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন। এ রায়ে আমরা আইনজীবীসহ নিহতের পরিবার অসন্তুষ্ট।’

তিনি আরও বলেন, ‘হত্যার পর মূল হোতা পার পেয়ে গেলে সমাজে অপরাধ আরও বাড়বে।’

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আব্দুল হাদী বেলাল জানান, মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, জহিরন আক্তার জুঁই ওরফে গেদী ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা দিয়ে উৎস রহমানকে হত্যার পরিকল্পনা করিয়েছিলেন। অথচ আদালতে তিনি খালাস পেয়েছেন। এ কারণে নিহতের পরিবার সংক্ষুব্ধ এবং তারা উচ্চ আদালতে আপিল করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

রংপুর সিটি প্রেসক্লাবের সভাপতি স্বপন চৌধুরী বলেন, ‘এই রায়ে সাংবাদিক সমাজ সন্তুষ্ট নয়। দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা পলাতক, আবার মূল হোতাও খালাস পেয়েছেন। সব মিলিয়ে এটি বিস্ময়কর একটি রায়।’

রংপুর সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি সালেকুজ্জামান ছালেক বলেন, ‘সাক্ষ্য-প্রমাণের ঘাটতির কারণে মূল অভিযুক্ত খালাস পেয়েছেন। এতে আমরা মর্মাহত। বিষয়টি নিয়ে সাংবাদিক সংগঠনের নেতারা বসে পরবর্তী করণীয় ঠিক করবেন।’

মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২০১৫ সালের ২৩ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় রংপুরের দৈনিক যুগের আলোর কার্যালয়ে যান সাংবাদিক উৎস রহমান। এরপর রাতে তিনি আর বাড়ি ফেরেননি। পরদিন সকালে নগরীর ধর্মদাস এলাকায় একটি গাছের সঙ্গে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় উৎস রহমানের মা নুরজাহান বেগম বাদী হয়ে থানায় হত্যা মামলা করেন।

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় বিরিয়ানি খেয়ে তিন পরিবারের ৯ জন অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, আলমডাঙ্গা পৌর শহরের হাইরোডে হাজী বিরিয়ানি হাউজ থেকে বিরিয়ানি কিনে খাওয়ার পর তাঁদের বমি, তীব্র পেটব্যথা ও ডায়রিয়া শুরু হয়।

রাজশাহীর পুঠিয়ায় দিনদুপুরে একই দিনে তিন বাড়িতে চুরির ঘটনা ঘটেছে। উপজেলার গাং ধোপাপাড়ার হিন্দুপাড়া ও কারিগরপাড়া এলাকায় গতকাল মঙ্গলবার প্রবাসীসহ দুই শিক্ষকের বাড়িতে এ চুরির ঘটনা ঘটে।

কুমিল্লার দেবিদ্বারে অবৈধ ও মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রির অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালত চালিয়ে আট ফার্মেসিকে অর্থদণ্ড করা হয়েছে। একই অভিযানে নির্ধারিত স্থানে বাস পার্কিং না করে যানজট সৃষ্টির দায়ে দুই বাসকেও অর্থদণ্ড করা হয়।