জুলাইয়ে রাশিয়ার ড্রোন হামলার রেকর্ড
২০২৫ সালের জুলাই মাসে ইউক্রেনের আকাশপথে নজিরবিহীনভাবে ছড়িয়ে পড়েছে রাশিয়ার ড্রোন। কিয়েভের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, এ মাসে ৬ হাজারেরও বেশি ড্রোন হামলা হয়েছে, যা পূর্ণ মাত্রার যুদ্ধ শুরুর পর থেকে সর্বোচ্চ।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, জুলাইয়ে কেবল ড্রোন হামলার কারণেই বহু বেসামরিক স্থাপনা ধ্বংস হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আবাসিক ভবন, শিশুদের কিন্ডারগার্টেন ও জরুরি চিকিৎসা সেবাদানকারী অ্যাম্বুলেন্স। প্রাণ হারিয়েছেন বহু মানুষ, আহত হয়েছেন আরও অনেকে।
ইউক্রেনের বিমান বাহিনী প্রকাশিত এক তথ্য অনুযায়ী, রাশিয়া জুলাই মাসে অন্তত ৬,২৯৭টি দূরপাল্লার ড্রোন নিক্ষেপ করেছে, যা তার আগের মাস জুনের তুলনায় ১৬ শতাংশ বেশি। এ সংখ্যা যুদ্ধকালীন সময়ে ড্রোন হামলার দিক থেকে একক মাসে সর্বোচ্চ।
আরেকটি প্রতিবেদনে বলা হয়, এসব ড্রোনের বড় অংশই ছিল ‘শাহেদ’ ধরনের, যা ইরানীয় প্রযুক্তিনির্ভর। কিয়েভভিত্তিক এক সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, এক মাসে এ ধরনের ড্রোনই পাঠানো হয়েছে ৬,১২৯টি, যেখানে আগের বছর একই সময়ে এই সংখ্যা ছিল মাত্র ৪২৩টি অর্থাৎ বেড়েছে ১৪ গুণেরও বেশি।
উল্লেখযোগ্যভাবে, ৯ জুলাই এক রাতেই ইউক্রেনের পশ্চিমাঞ্চলে চালানো হয় ৭৪১টি ড্রোন ও ডিকয় হামলা, যা ২০২৪ সালের পুরো জুলাই মাসে রাশিয়ার নিক্ষিপ্ত ড্রোনের সংখ্যাকেও ছাড়িয়ে গেছে। ওই রাতে ইউক্রেনের অন্তত তিনটি অঞ্চলে (সুমি, দোনেৎস্ক, খেরসন) নিহত হয়েছেন কমপক্ষে আটজন। যদিও ইউক্রেনীয় বাহিনী দাবি করেছে, সেদিন নিক্ষিপ্ত ড্রোনের অধিকাংশই তারা সফলভাবে প্রতিহত করেছে।
এতসব হামলার মধ্যেই একদিন পর যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দেন, তার প্রশাসন ইউক্রেনকে অতিরিক্ত প্রতিরক্ষামূলক সরঞ্জাম পাঠাতে প্রস্তুত। কিন্তু কিছুদিনের মধ্যেই পেন্টাগনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, অস্ত্র মজুদের সীমাবদ্ধতার কারণে ইউক্রেনকে কিছু সরবরাহ স্থগিত করা হয়েছে।
ড্রোনের পাশাপাশি জুলাই মাসে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সংখ্যাও ছিল উল্লেখযোগ্য। এএফপির তথ্যমতে, রাশিয়া জুলাইয়ে ইউক্রেনের দিকে ১৯৮টি ক্ষেপণাস্ত্র ছুঁড়েছে, যা জুন ছাড়া ২০২৫ সালের অন্য যেকোনো মাসের তুলনায় বেশি।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ক্রমবর্ধমান এই আক্রমণের ধরন এবং মাত্রা রাশিয়ার কৌশলে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারে আক্রমণের ঘনত্ব বাড়ানো হচ্ছে, যার ফলে ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা আরও চাপে পড়ছে।
তথ্যসূত্র বলছে, জুন মাসে রাশিয়ার ড্রোন হামলার সংখ্যা ছিল ৫,৩৩৭টি, অর্থাৎ জুলাইয়ের তুলনায় কিছুটা কম হলেও সেটি ছিল দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।
ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার এই রেকর্ড পরিমাণ বৃদ্ধির পেছনে রাশিয়ার কৌশলগত কারণ থাকলেও, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সাধারণ মানুষ। বাড়ছে প্রাণহানি, ধ্বংস হচ্ছে অবকাঠামো। যুদ্ধের ভয়াবহতা আবারও নতুনভাবে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল জুলাই মাসের ইউক্রেন পরিস্থিতি।
