কাপ্তাইয়ে লোডশেডিংয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত
রাঙ্গামাটি জেলার কাপ্তাই উপজেলায় বিদ্যুৎ সংকটের যেন নিয়মিত দুর্ভোগের পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন ঘন্টার পর ঘন্টা লোডশেডিংয়ের কবলে পড়ে জনজীবন হয়ে উঠেছে বিষণ্ন। বিদ্যুৎ না থাকায় হাসপাতাল, ব্যাংক, স্কুল-কলেজ, সরকারি-বেসরকারি অফিস এবং শিল্পকারখানার কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
অথচ এখানেই অবস্থিত দেশের একমাত্র জলবিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র কাপ্তাইয়ে হ্রদের অবস্থিত হাইড্রো পাওয়ার প্ল্যান্ট। এখান থেকে প্রতিদিন গড়ে ২৩০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হয়। অথচ পাশেই কাপ্তাইয়ের উপজেলায় চলছে ভয়াবহ লোডশেডিং।
স্থানীয়রা বলছেন, দিনের বেলা তো বটেই, ধর্মীয় উপাসনার সময়েও বিদ্যুৎ থাকেনা। মসজিদে নামাজ, মন্দিরে পূজা, গির্জা কিংবা বৌদ্ধ বিহারে উপাসনার সময় হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার ঘটনা নিত্যনৈমিত্তিক।
স্থানীয়দের দাবি, এই অব্যবস্থাপনার পেছনে রয়েছে অবহেলা ও ইচ্ছাকৃত বৈষম্য। কেউ কেউ বলছেন, বিদ্যুৎ বিভাগের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও ব্যক্তিগত শত্রুতার জেরে কাপ্তাইবাসীকে প্রতিনিয়ত ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে।
সচেতন নাগরিকরা আরো অভিযোগ করেন, গত বছরের ৫ আগস্টের পর থেকে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের মাত্রা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগ পরিচালনায় স্বচ্ছতা নেই বলেই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
কাপ্তাই নতুন বাজার বণিক কল্যাণ সমবায় সমিতির সভাপতি মোঃ জয়নাল আবেদীন বলেন, “প্রতিদিন গড়ে ১৫ থেকে ২০ বার বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। একেকবারের লোডশেডিংয়ের সময় দুই থেকে তিন ঘণ্টা। এতে ব্যবসায়ীরা ভয়াবহ ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।”
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এই ইস্যুতে ক্ষোভ ঝাড়ছেন সাধারণ মানুষ। কেউ লিখেছেন, “ঝড় নেই, বৃষ্টি নেই, তবু বিদ্যুৎ থাকছেনা।” আবার কেউ লিখেছেন, “কাপ্তাই পিডিবি যেন পল্লী বিদ্যুৎকেও হার মানিয়েছে।”
দৈনিক টার্গেট বিভাগীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। চন্দ্রঘোনা আবাসিক বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলী এ কে এম শামসুল আরেফিনের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে একাধিকবার ফোন করার পরেও।
বিদ্যুৎ বিভ্রাটে অতিষ্ঠ কাপ্তাইয়ের জনগণ এখন দ্রুত কার্যকর সমাধানের আশায় তাকিয়ে আছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দিকে।
