সংসদ গবেষণা ইনস্টিটিউট নিয়ে ফের আলোচনা
জাতীয় সংসদের কার্যকারিতা ও সংসদ সদস্যদের দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ২০০১ সালে একটি বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। আইন প্রণয়ন ও প্রশাসনিক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে “বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পার্লামেন্টারি স্টাডিজ (বিআইপিএস)” নামে একটি সংস্থা প্রতিষ্ঠিত হলেও দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময়েও এটি পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যক্রম শুরু করতে পারেনি।
সংসদ সচিবালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০০১ সালের ১১ এপ্রিল এই ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার জন্য আইন পাস করা হয় এবং একই বছরের ২৩ মে প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে এর যাত্রা শুরু ঘোষণা করা হয়। উদ্দেশ্য ছিল সংসদ সদস্যদের আইন প্রণয়ন, গবেষণা ও নীতিনির্ধারণী কাজে বিশেষায়িত সহায়তা প্রদান করা। তবে বাস্তবে প্রতিষ্ঠানটি কাঠামোগতভাবে দাঁড়ালেও কার্যকর কোনো ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হয়।
পরবর্তী সময়ে ২০১২–১৩ অর্থবছরে একটি প্রকল্পের মাধ্যমে সীমিত আকারে কিছু কার্যক্রম চালু করা হলেও তা স্থায়ী রূপ পায়নি। ফলে দীর্ঘ সময় ধরে প্রতিষ্ঠানটি কার্যত অচল অবস্থায় পড়ে থাকে।
দ্বাদশ জাতীয় সংসদের সময় ইনস্টিটিউটটি পুনরায় সক্রিয় করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। সে সময় ১৬ সদস্যের একটি পরিচালনা বোর্ড গঠন করা হয় এবং সংসদের স্পিকারকে এর চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। ২০২৪ সালের মে মাসে বোর্ডের প্রথম বৈঠকে ইনস্টিটিউটের কাঠামো, বিধিমালা প্রণয়ন, রেক্টর নিয়োগ এবং নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও গবেষণা কার্যক্রম চালুর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সংসদ ভবনের মিডিয়া সেন্টারের পাশে দুটি কক্ষও বরাদ্দ করা হয়, যেখানে ইনস্টিটিউটের নামফলক স্থাপন করা আছে।
তবে একই বছরের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর সংসদ কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দেয় এবং ইনস্টিটিউট পুনরায় কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়ে। বর্তমানে নতুন করে সংসদীয় গবেষণা ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানটি সচল করার আলোচনা শুরু হয়েছে। এ লক্ষ্যে সংসদের লাইব্রেরি কমিটির অধীনে একটি উপকমিটি গঠন করা হয়, যা ইনস্টিটিউট পুনর্গঠনের সম্ভাবনা ও কাঠামো পর্যালোচনা করছে।
সম্প্রতি অনুষ্ঠিত উপকমিটির বৈঠকে প্রতিবেশী দেশ ভারত, পাকিস্তান, ফিলিপাইন ও কম্বোডিয়ার মতো দেশে এ ধরনের সংসদীয় গবেষণা প্রতিষ্ঠান কার্যকরভাবে পরিচালিত হওয়ার উদাহরণ তুলে ধরা হয়। আলোচনায় ইনস্টিটিউটকে পুনরুজ্জীবিত করতে আইন সংশোধন, উপযুক্ত স্থান নির্বাচন এবং দক্ষ নেতৃত্ব নিয়োগের বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়। এসব সুপারিশ মূল কমিটির কাছে উপস্থাপন করা হবে বলে জানা গেছে।
উপকমিটির আহ্বায়ক এক সংসদ সদস্যের মতে, সংসদ সদস্যদের দক্ষতা ও জ্ঞানভিত্তি শক্তিশালী করতে এমন একটি প্রতিষ্ঠান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে এটি সংসদীয় গণতন্ত্রকে আরও কার্যকর ও শক্তিশালী করবে।
অন্যদিকে সংসদীয় গবেষকরা বিষয়টি নিয়ে ভিন্ন মত দিচ্ছেন। তাদের মতে, নতুন করে আলাদা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার পরিবর্তে বিদ্যমান সংসদীয় গবেষণা ও লাইব্রেরি সেলকে আরও শক্তিশালী ও আধুনিক করা বেশি কার্যকর হতে পারে। এতে ব্যয় কমবে এবং একই সঙ্গে কার্যক্রমও দ্রুত বাস্তবায়ন সম্ভব হবে।
সব মিলিয়ে বিআইপিএস নিয়ে আবারও নতুন আলোচনা শুরু হলেও, এটি আলাদা প্রতিষ্ঠান হিসেবে কার্যকর হবে নাকি বিদ্যমান কাঠামোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে—সে সিদ্ধান্ত এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
