অগ্নিকাণ্ডের পর বন্ধ ৫০ হোটেল: ফের অর্থনৈতিক সংকটে কলকাতার ‘মিনি বাংলাদেশ’

  • দৈনিক টার্গেট
  • প্রকাশ: ১২:১৫:২৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৪৬ বার পঠিত হয়েছে

গত ১৯ আগস্ট রাত আনুমানিক ২টার দিকে মির্জা গালিব স্ট্রিটের ‘হোটেল শিখা ইন’-এ হঠাৎ আগুন লাগে। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় নয়জনের মৃত্যু হয়, যাদের মধ্যে পাঁচজন বাংলাদেশি নাগরিক ছিলেন। তাৎক্ষণিক তৎপরতায় ভবনটি থেকে স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকসহ প্রায় ৮০ জনকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়।

ঘটনার পর পরই শিখা ইন-এর মালিককে গ্রেপ্তার করা হয় এবং রাস্তার বিপরীত পাশে থাকা তাঁর একটি খাবার হোটেলও সিলগালা করে দেওয়া হয়।

কলকাতায় এই অগ্নিকাণ্ডের মাত্র দুই দিন আগে বীরভূম জেলার রামপুরহাটের একটি হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে আটজনের মৃত্যু হয়। পরপর দুটি ভয়াবহ ঘটনার পর নড়েচড়ে বসে রাজ্য প্রশাসন ও কলকাতা পৌরসংস্থা।

কেএমসি দ্রুত ফ্রি স্কুল স্ট্রিট ও মারকুইস স্ট্রিট এলাকায় ব্যাপক ফায়ার সেফটি অডিট শুরু করে। পরিদর্শন শেষে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় প্রায় ৫০টি হোটেল, গেস্ট হাউস ও রেস্তোরাঁকে নোটিশ ঝুলিয়ে রাতারাতি বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়।

উদাহরণস্বরূপ, মারকুইস স্ট্রিটের ‘ম্যাগনোলিয়াস ম্যাগি গেস্ট হাউস’-কে নোটিশ দেওয়া হয় কারণ তারা নন-এসি ঘরের লাইসেন্স নিয়ে এসি রুম পরিচালনা করছিল। হোটেলটির ব্যবস্থাপক দ্য উইককে বলেন, এক হোটেলে আগুনের ঘটনার জন্য সব হোটেল বন্ধ করে দেওয়া কতটা যৌক্তিক? আমরা গ্রাহকদের ফিরিয়ে দিতে বাধ্য হচ্ছি, ব্যবসা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

পশ্চিমবঙ্গের পৌর ও নগর উন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল প্রশাসনের এই কঠোর পদক্ষেপের ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, ‘ব্যবসা বন্ধ করা বা রেস্তোরাঁ সিলগালা করা আমাদের উদ্দেশ্য নয়। এতে আমরা কোনো আনন্দ পাই না। কিন্তু রামপুরহাট বা ফ্রি স্কুল স্ট্রিটের মতো মর্মান্তিক ঘটনার পুনরাবৃত্তি রুখতেই আমাদের এই কঠোর পদক্ষেপ নিতে হয়েছে। নিরাপত্তার ক্ষেত্রে কোনো অজুহাত বা আপস সহ্য করা হবে না।’

আকস্মিক হোটেল বন্ধের খবর না জেনে বাংলাদেশ থেকে সরাসরি কলকাতায় পৌঁছানো যাত্রীরা চরম বিপাকে পড়েছেন। ন্যূনতম ১ হাজার ২০০ রুপি থেকে শুরু হওয়া সাশ্রয়ী ভাড়ার কারণে এই এলাকার গেস্ট হাউসগুলোতেই বেশির ভাগ বাংলাদেশি অবস্থান করেন।

বাংলাদেশ থেকে বাসযোগে মারকুইস স্ট্রিটে পৌঁছানো আইরিন নামের এক পর্যটক তাঁর অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে বলেন, ‘দীর্ঘ যাত্রার পর শরীর ক্লান্ত ছিল। ভেবেছিলাম হোটেলে উঠে একটু বিশ্রাম নিয়ে খাবার খেয়ে ডাক্তারের কাছে যাব। কিন্তু এসে দেখছি কোনো হোটেল খোলা নেই। ব্যাগপত্র নিয়ে এখন এক হোটেল থেকে অন্য হোটেলে ঘুরতে হচ্ছে।’

প্রথমবার কলকাতায় আসা জামাল ও তাঁর স্ত্রী জানান, অগ্রিম কোনো তথ্য না থাকায় রাস্তায় রাস্তায় আবাসন খুঁজে বেড়াতে হচ্ছে তাঁদের।

অন্যদিকে, হৃদ্‌রোগের চিকিৎসার পর শারীরিক পরীক্ষার জন্য আসা মুকুল তালুকদার জানান, এটি তাঁর ১৭ তম কলকাতা ভ্রমণ। সাধারণত তিনি কলকাতায় এসে বেলুর মঠ দর্শন করেন এবং সেখান থেকে চিকিৎসার জন্য বেঙ্গালুরু যান। তিনি বলেন, ‘এতবার এসেছি, কখনো এমন পরিস্থিতিতে পড়তে হয়নি। বহু হোটেল বন্ধ, কোথায় উঠব বুঝে উঠতে পারছি না।’

উদ্ভূত আবাসন সংকট মোকাবিলায় দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে কলকাতায় অবস্থিত বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশন। অগ্নিকাণ্ডের পরপরই পর্যটকদের সহায়তায় একটি ২৪ ঘণ্টার হেল্পলাইন চালু করা হয় এবং বাংলাদেশে একটি ভ্রমণ নির্দেশিকা পাঠানো হয়।

উপ-হাইকমিশন থেকে আটকে পড়া ও বিপদে পড়া পর্যটকদের বিকল্প ও বৈধ নিরাপদ আবাসনে স্থানান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশের উপ-হাইকমিশনার মোহাম্মদ খালেদ দ্য উইককে বলেন, ‘আমরা কলকাতা পৌরসভা ও পশ্চিমবঙ্গ পর্যটন দপ্তরের সঙ্গে সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠক করেছি। কেএমসি হোটেলগুলোকে ফায়ার সেফটি নবায়ন ও সংশোধন করার জন্য ৩০ দিনের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে। আমরা হোটেল মালিকদের অনুরোধ করেছি নিয়ম মেনে দ্রুত প্রক্রিয়া শেষ করতে এবং বিকল্প হিসেবে পর্যটকদের সাময়িক থাকার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে।’

‘মিনি বাংলাদেশ’ এলাকার পুরো অর্থনীতি বাংলাদেশি পর্যটকদের ওপর নির্ভরশীল। তবে গত কয়েক মাস ধরেই এই ব্যবসায়ী অঞ্চলটি নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল।

২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এবং ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেওয়ার মধ্যবর্তী সময়ে ভিসা প্রাপ্তিতে কড়াকড়ি এবং ভ্রমণের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। পূর্বে যেখানে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৫ হাজার চিকিৎসা ভিসা ইস্যু করা হতো, তা আশঙ্কাজনকভাবে কমে যায়।

এর সঙ্গে যুক্ত হয় সীমান্ত এলাকায় কড়াকড়ি, বিশেষ নিবিড় সংশোধনী (এসআইআর) প্রক্রিয়া এবং বিজেপি শাসিত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সীমান্ত সিল করার সাম্প্রতিক কঠোর অবস্থান।

এসব প্রতিকূলতা পেরিয়ে গত দুই মাসে যখন ভিসা প্রদান কিছুটা স্বাভাবিক হতে শুরু করেছিল এবং ব্যবসায়ীরা আশার মুখ দেখছিলেন, ঠিক তখনই হোটেল বন্ধের এই সিদ্ধান্তে নতুন করে বিপর্যয় নেমে এসেছে।

লোহিত সাগরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক নৌপথ বাব আল-মান্দেব প্রণালি ও এর মধ্যবর্তী পেরিম দ্বীপের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা। এরপরই সৌদি আরবের নিজস্ব গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহনব্যবস্থায় ড্রোন হামলা চালিয়েছে তারা। এ অবস্থায় ‘ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইন’ নামে ওই তেল পর

ইয়েমেনের লোহিত সাগরীয় উপকূল-জুড়ে প্রায় পুরো এলাকা নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার দাবি করেছে শিয়া হুতি বিদ্রোহীরা। ইরানপন্থী হুতি বাহিনীর যোদ্ধারা গতকাল শুক্রবার বাব আল-মান্দেব প্রণালির পেরিম দ্বীপ দখল করে। লোহিত সাগরের বন্দরগুলো থেকে সংকীর্ণ এ প্রণালী দিয়েই সৌদি আরবের জ্বালানি রপ্তানি করা হয়ে থাকে।

২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর। নিউইয়র্কের আকাশে তখন ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ এক সকাল। ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের টুইন টাওয়ারে আঘাত হেনেছে দুটি ছিনতাই করা বিমান। আগুন, ধোঁয়া আর ধ্বংসস্তূপের মধ্যে আটকে পড়েছেন শত শত মানুষ।

জনপ্রিয় টার্গেট

অগ্নিকাণ্ডের পর বন্ধ ৫০ হোটেল: ফের অর্থনৈতিক সংকটে কলকাতার ‘মিনি বাংলাদেশ’

প্রকাশ: ১২:১৫:২৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

গত ১৯ আগস্ট রাত আনুমানিক ২টার দিকে মির্জা গালিব স্ট্রিটের ‘হোটেল শিখা ইন’-এ হঠাৎ আগুন লাগে। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় নয়জনের মৃত্যু হয়, যাদের মধ্যে পাঁচজন বাংলাদেশি নাগরিক ছিলেন। তাৎক্ষণিক তৎপরতায় ভবনটি থেকে স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকসহ প্রায় ৮০ জনকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়।

ঘটনার পর পরই শিখা ইন-এর মালিককে গ্রেপ্তার করা হয় এবং রাস্তার বিপরীত পাশে থাকা তাঁর একটি খাবার হোটেলও সিলগালা করে দেওয়া হয়।

কলকাতায় এই অগ্নিকাণ্ডের মাত্র দুই দিন আগে বীরভূম জেলার রামপুরহাটের একটি হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে আটজনের মৃত্যু হয়। পরপর দুটি ভয়াবহ ঘটনার পর নড়েচড়ে বসে রাজ্য প্রশাসন ও কলকাতা পৌরসংস্থা।

কেএমসি দ্রুত ফ্রি স্কুল স্ট্রিট ও মারকুইস স্ট্রিট এলাকায় ব্যাপক ফায়ার সেফটি অডিট শুরু করে। পরিদর্শন শেষে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় প্রায় ৫০টি হোটেল, গেস্ট হাউস ও রেস্তোরাঁকে নোটিশ ঝুলিয়ে রাতারাতি বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়।

উদাহরণস্বরূপ, মারকুইস স্ট্রিটের ‘ম্যাগনোলিয়াস ম্যাগি গেস্ট হাউস’-কে নোটিশ দেওয়া হয় কারণ তারা নন-এসি ঘরের লাইসেন্স নিয়ে এসি রুম পরিচালনা করছিল। হোটেলটির ব্যবস্থাপক দ্য উইককে বলেন, এক হোটেলে আগুনের ঘটনার জন্য সব হোটেল বন্ধ করে দেওয়া কতটা যৌক্তিক? আমরা গ্রাহকদের ফিরিয়ে দিতে বাধ্য হচ্ছি, ব্যবসা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

পশ্চিমবঙ্গের পৌর ও নগর উন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল প্রশাসনের এই কঠোর পদক্ষেপের ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, ‘ব্যবসা বন্ধ করা বা রেস্তোরাঁ সিলগালা করা আমাদের উদ্দেশ্য নয়। এতে আমরা কোনো আনন্দ পাই না। কিন্তু রামপুরহাট বা ফ্রি স্কুল স্ট্রিটের মতো মর্মান্তিক ঘটনার পুনরাবৃত্তি রুখতেই আমাদের এই কঠোর পদক্ষেপ নিতে হয়েছে। নিরাপত্তার ক্ষেত্রে কোনো অজুহাত বা আপস সহ্য করা হবে না।’

আকস্মিক হোটেল বন্ধের খবর না জেনে বাংলাদেশ থেকে সরাসরি কলকাতায় পৌঁছানো যাত্রীরা চরম বিপাকে পড়েছেন। ন্যূনতম ১ হাজার ২০০ রুপি থেকে শুরু হওয়া সাশ্রয়ী ভাড়ার কারণে এই এলাকার গেস্ট হাউসগুলোতেই বেশির ভাগ বাংলাদেশি অবস্থান করেন।

বাংলাদেশ থেকে বাসযোগে মারকুইস স্ট্রিটে পৌঁছানো আইরিন নামের এক পর্যটক তাঁর অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে বলেন, ‘দীর্ঘ যাত্রার পর শরীর ক্লান্ত ছিল। ভেবেছিলাম হোটেলে উঠে একটু বিশ্রাম নিয়ে খাবার খেয়ে ডাক্তারের কাছে যাব। কিন্তু এসে দেখছি কোনো হোটেল খোলা নেই। ব্যাগপত্র নিয়ে এখন এক হোটেল থেকে অন্য হোটেলে ঘুরতে হচ্ছে।’

প্রথমবার কলকাতায় আসা জামাল ও তাঁর স্ত্রী জানান, অগ্রিম কোনো তথ্য না থাকায় রাস্তায় রাস্তায় আবাসন খুঁজে বেড়াতে হচ্ছে তাঁদের।

অন্যদিকে, হৃদ্‌রোগের চিকিৎসার পর শারীরিক পরীক্ষার জন্য আসা মুকুল তালুকদার জানান, এটি তাঁর ১৭ তম কলকাতা ভ্রমণ। সাধারণত তিনি কলকাতায় এসে বেলুর মঠ দর্শন করেন এবং সেখান থেকে চিকিৎসার জন্য বেঙ্গালুরু যান। তিনি বলেন, ‘এতবার এসেছি, কখনো এমন পরিস্থিতিতে পড়তে হয়নি। বহু হোটেল বন্ধ, কোথায় উঠব বুঝে উঠতে পারছি না।’

উদ্ভূত আবাসন সংকট মোকাবিলায় দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে কলকাতায় অবস্থিত বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশন। অগ্নিকাণ্ডের পরপরই পর্যটকদের সহায়তায় একটি ২৪ ঘণ্টার হেল্পলাইন চালু করা হয় এবং বাংলাদেশে একটি ভ্রমণ নির্দেশিকা পাঠানো হয়।

উপ-হাইকমিশন থেকে আটকে পড়া ও বিপদে পড়া পর্যটকদের বিকল্প ও বৈধ নিরাপদ আবাসনে স্থানান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশের উপ-হাইকমিশনার মোহাম্মদ খালেদ দ্য উইককে বলেন, ‘আমরা কলকাতা পৌরসভা ও পশ্চিমবঙ্গ পর্যটন দপ্তরের সঙ্গে সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠক করেছি। কেএমসি হোটেলগুলোকে ফায়ার সেফটি নবায়ন ও সংশোধন করার জন্য ৩০ দিনের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে। আমরা হোটেল মালিকদের অনুরোধ করেছি নিয়ম মেনে দ্রুত প্রক্রিয়া শেষ করতে এবং বিকল্প হিসেবে পর্যটকদের সাময়িক থাকার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে।’

‘মিনি বাংলাদেশ’ এলাকার পুরো অর্থনীতি বাংলাদেশি পর্যটকদের ওপর নির্ভরশীল। তবে গত কয়েক মাস ধরেই এই ব্যবসায়ী অঞ্চলটি নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল।

২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এবং ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেওয়ার মধ্যবর্তী সময়ে ভিসা প্রাপ্তিতে কড়াকড়ি এবং ভ্রমণের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। পূর্বে যেখানে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৫ হাজার চিকিৎসা ভিসা ইস্যু করা হতো, তা আশঙ্কাজনকভাবে কমে যায়।

এর সঙ্গে যুক্ত হয় সীমান্ত এলাকায় কড়াকড়ি, বিশেষ নিবিড় সংশোধনী (এসআইআর) প্রক্রিয়া এবং বিজেপি শাসিত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সীমান্ত সিল করার সাম্প্রতিক কঠোর অবস্থান।

এসব প্রতিকূলতা পেরিয়ে গত দুই মাসে যখন ভিসা প্রদান কিছুটা স্বাভাবিক হতে শুরু করেছিল এবং ব্যবসায়ীরা আশার মুখ দেখছিলেন, ঠিক তখনই হোটেল বন্ধের এই সিদ্ধান্তে নতুন করে বিপর্যয় নেমে এসেছে।

লোহিত সাগরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক নৌপথ বাব আল-মান্দেব প্রণালি ও এর মধ্যবর্তী পেরিম দ্বীপের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা। এরপরই সৌদি আরবের নিজস্ব গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহনব্যবস্থায় ড্রোন হামলা চালিয়েছে তারা। এ অবস্থায় ‘ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইন’ নামে ওই তেল পর

ইয়েমেনের লোহিত সাগরীয় উপকূল-জুড়ে প্রায় পুরো এলাকা নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার দাবি করেছে শিয়া হুতি বিদ্রোহীরা। ইরানপন্থী হুতি বাহিনীর যোদ্ধারা গতকাল শুক্রবার বাব আল-মান্দেব প্রণালির পেরিম দ্বীপ দখল করে। লোহিত সাগরের বন্দরগুলো থেকে সংকীর্ণ এ প্রণালী দিয়েই সৌদি আরবের জ্বালানি রপ্তানি করা হয়ে থাকে।

২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর। নিউইয়র্কের আকাশে তখন ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ এক সকাল। ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের টুইন টাওয়ারে আঘাত হেনেছে দুটি ছিনতাই করা বিমান। আগুন, ধোঁয়া আর ধ্বংসস্তূপের মধ্যে আটকে পড়েছেন শত শত মানুষ।